ছবি: সংগৃহিত

হিন্দু ধর্মাবলম্বী হয়েও জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন করায় পরিকল্পিতভাবে হয়রানির শিকার হন সতন কুমার। একজন শিক্ষিত ও সচেতন যুবক হিসেবে ছাত্রজীবন থেকেই তিনি শিবিরের বিভিন্ন সামাজিক ও আদর্শিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।
সেখান থেকেই জামায়াত-শিবিরের প্রতি তার ভালোবাসা ও আস্থা তৈরি হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জয়পুরহাট-১ আসনের প্রার্থী মোঃ ফজলুর রহমান সাঈদের পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন। আর এটিই যেন কিছু প্রতিহিংসাপরায়ণ গোষ্ঠীর চোখে তার “অপরাধ” হয়ে দাঁড়ায়।
জীবিকার তাগিদে ছোট একটি চাকরির পাশাপাশি সতন পরিচালনা করেন একটি গ্যারেজ ব্যবসা। সেই গ্যারেজকে কেন্দ্র করেই তৈরি করা হয় নতুন ষড়যন্ত্র। এক ব্যক্তি তার রিকশা ভাড়ায় চালাতেন এবং রিকশাটি রাখা হতো সতনের গ্যারেজে। একদিন হঠাৎ রিকশার প্রকৃত মালিক সতনের অনুপস্থিতিতে তার বৃদ্ধ মাকে তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক রিকশাটি নিয়ে যান।
বাসায় ফিরে রিকশা না পেয়ে বিপাকে পড়েন সতন। এদিকে ভাড়াটিয়া চালক রিকশা ফেরত দাবি করতে থাকেন। কিন্তু ততক্ষণে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা চাপ সৃষ্টি করতে থাকে রিকশা ফেরত দিতে হবে, নতুবা সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। মূলত এটি ছিল সতনকে ফাঁসানোর একটি সুপরিকল্পিত কূটচাল।
পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে সতন বিষয়টি জামায়াতের দায়িত্বশীলদের অবহিত করেন। পরে দ্রুত সদর থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয় এবং সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসে। এ সময় স্থানীয় সচেতন জনগণও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে দাঁড়ায়। পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় জনতা এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দৃঢ় ভূমিকার কারণে সন্ত্রাসী ও ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠীর অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়। রিকশাটি প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরে যায় এবং সতন কুমার মুক্তি পান একটি ভয়াবহ ষড়যন্ত্র থেকে।
এ ঘটনাই প্রমাণ করে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে সন্ত্রাস, জুলুম ও ষড়যন্ত্র কখনো সফল হতে পারে না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনতার প্রতিরোধই পারে অসহায় মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে।
আসুন! আমরা সতনের মতো মানুষদের পাশে দাঁড়াই। সে হোক হিন্দু, মুসলিম বা অন্য কোন ধর্মের।
