Oplus_131072

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ২নং নন্নী ও ১নং পোড়াগাঁও ইউনিয়নের মধ্যবর্তী নন্নী উত্তরবন্দ ও বাতকুচি গ্রামের সংযোগস্থলে শনিবার (২৭ জুন) জলধারার ওপর অস্থায়ী বাঁশের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। নন্নী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নন্নী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নজরুল ইসলামের উদ্যোগে, অর্থনৈতিক ও সার্বিক সহযোগিতায় নির্মিত এ সেতুর ফলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে থাকা দুই গ্রামের মানুষের চলাচল সহজ হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, এটি সাময়িক সমাধান; দ্রুত সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জলধারাটির ওপর আগে একটি লোহার সেতু ছিল। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর দুই গ্রামের মানুষের যাতায়াত চরমভাবে ব্যাহত হয়। শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া, শিশুদের মক্তবে যাতায়াত, মুসল্লিদের মসজিদে নামাজ আদায় এবং অসুস্থ ব্যক্তীদের হাসপাতালে নেওয়াসহ দৈনন্দিন কাজে দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পারাপার হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ।
এ অবস্থায় নজরুল ইসলামের উদ্যোগে, অর্থনৈতিক ও সার্বিক সহযোগিতায় সম্প্রতি অস্থায়ী বাঁশের সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এতে দুই গ্রামের মানুষের চলাচলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
নন্নী উত্তরবন্দ গ্রামের বাসিন্দা মো. উসমান মিয়া (৪২) বলেন, “সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে আমরা চরম ভোগান্তিতে ছিলাম। নজরুল ইসলাম ভাইয়ের সার্বিক সহযোগিতায় বাঁশের সেতু নির্মাণ হওয়ায় এখন অন্তত স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছি। তবে আমরা সরকারের কাছে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।”
বাতকুচি গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুল কাদির (৫৪) বলেন, “অস্থায়ী বাঁশের সেতু হওয়ায় শিক্ষার্থী, মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের চলাচল সহজ হয়েছে। কিন্তু এটি স্থায়ী সমাধান নয়। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করতে এখানে দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।”
নন্নী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নজরুল ইসলাম বলেন, “এটি সম্পূর্ণ মানবিক বিবেচনা থেকে নেওয়া একটি উদ্যোগ। সেতু ভেঙে যাওয়ার পর দুই গ্রামের মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থী, মুসল্লি ও অসুস্থ রোগীরা দীর্ঘদিন দুর্ভোগে ছিলেন। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে অর্থনৈতিক ও সার্বিক সহযোগিতা করেছি। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় অস্থায়ী বাঁশের সেতুটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এখানে একটি টেকসই স্থায়ী সেতু নির্মাণ করলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, অস্থায়ী বাঁশের সেতু আপাতত যাতায়াতের সুবিধা সৃষ্টি করলেও দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হোক। স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে নন্নী ও পোড়াগাঁও ইউনিয়নের হাজারো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
