প্রতিবেদক: বন্দর, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এক কুখ্যাত অপরাধীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ছিনতাই, ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদকসহ অন্তত ২০টি মামলার আসামি ‘ব্ল্যাক জনি’র নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে বিশাল মাদক সিন্ডিকেট, যা এখন পুরো এলাকায় আতঙ্কের কারণ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনিকে গ্রেফতার না করে বরং তার কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা গ্রহণের মাধ্যমে তাকে নিরাপত্তা দিচ্ছে পুলিশের একটি অসাধু চক্র। ফলে প্রশাসনের নাকের ডগায় বসেই তার বাহিনী নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
কে এই ব্ল্যাক জনি?
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বন্দর উপজেলার সুচিয়ারবন্দ এলাকার আমান উল্লাহর ছেলে ‘ব্ল্যাক জনি’ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাস হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা, ডাকাতি ও মাদকসহ অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে। ফেরারি আসামি হওয়া সত্ত্বেও সে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
কলাগাছিয়া, বন্দর, একরামপুর, সোনাকান্দা, ইস্পাহানী ও মুছাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তার নিয়ন্ত্রণে মাদক সরবরাহ চলছে। তার নেতৃত্বে সক্রিয় রয়েছে একাধিক কিশোর গ্যাং, যারা মাদক পরিবহন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত।
পুলিশের মাসোহারা ও সোর্স বাণিজ্যের অভিযোগ
স্থানীয়দের দাবি, জনির মাদক আস্তানাগুলো পুলিশের অজানা নয়। তবে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অংকের মাসোহারা পৌঁছে যাওয়ায় তাকে ধরতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় না। এমনকি বড় অভিযানের আগাম তথ্যও জনির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “আমরা জানি জনি কোথায় থাকে, পুলিশও জানে। কিন্তু পুলিশের পকেট যখন তার টাকায় ভারী হয়, তখন সাধারণ মানুষের কষ্ট কেউ দেখে না।”
জনদাবি—‘রাঘববোয়াল’ ধরার দাবি
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—এতগুলো মামলার আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালে আইনের শাসন কোথায়? তারা বলছেন, বন্দরকে মাদকমুক্ত করতে হলে শুধু খুচরা বিক্রেতা নয়, ব্ল্যাক জনির মতো মূল হোতা ও তাকে প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।