
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার রহবল দ্বি মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক প্রায় ৮ মাস ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় তার নিয়মিত স্বাক্ষর থাকার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ক্লাস রুটিনে তাকে পাঠদানকারী শিক্ষক হিসেবে দেখানো হচ্ছে এবং তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতাও উত্তোলন করছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, সহকারী শিক্ষক আরিফুল হক দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে আসছেন না। অথচ হাজিরা খাতায় প্রায় প্রতিদিনই তার স্বাক্ষর রয়েছে। কীভাবে এই স্বাক্ষর হচ্ছে এ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, আরিফুল স্যার আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ক্লাস নিতেন। অনেকদিন ধরে তাকে স্কুলে দেখি না। ফলে ক্লাসটি প্রায় ফাঁকা থাকে। ষষ্ঠ শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, ৮ম শ্রেণিতে ভর্তি হলেও তারা এখনো ওই শিক্ষককে দেখেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, আরিফুল স্যার আগে থেকেই প্রধান শিক্ষকে ম্যানেজ করে সুবিধা নিতেন। প্রায়ই স্কুল থেকে বের হয়ে যেতেন। এখন প্রায় ৮ মাস ধরে স্কুলে আসছেন না। তবে প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর দেখানো হচ্ছে।
স্থানীয় অভিভাবকদের ভাষ্য, সরকার শিক্ষকদের বেতন দেয় শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিশ্চিত করতে। কিন্তু শিক্ষক যদি মাসের পর মাস স্কুলে না আসেন, তাহলে শিক্ষার্থীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর থাকা বিষয়টি রহস্যজনক।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাইরে থাকায় সহকারী প্রধান শিক্ষক সৈয়দা মারুফা আজাদের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “আরিফুল স্যার আগে নিয়মিত আসতেন। ইদানীং মাঝে মধ্যে আসেন। বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষার ডিউটিতে থাকতে পারেন।”
তবে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন তাকে না দেখার কথা জানালে তিনি বলেন, “ওরা ছোট। সঠিকভাবে বিষয়টি বলতে পারবে না।” হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষরের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “প্রধান শিক্ষক কীভাবে বিষয়টি দেখছেন, তা আমি বলতে পারব না।”
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
শিবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তারিকুল আলম বলেন, “আমি সদ্য এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
