Oplus_131072

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা–এর নন্নী ইউনিয়ন–এ কালবৈশাখী ঝড়ে গাছচাপায় মোছা. বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) সকালে ইউনিয়নের নন্নী পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তিনি মৃত আব্দুর রহমানের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ঝড় শুরু হলে মোছা. বেগম নিজ ঘরে রান্নার কাজ করছিলেন। এ সময় বাড়িতে তিনি একাই ছিলেন। তার একমাত্র মেয়ে রহিমা বেগম সন্তানকে নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলেন এবং মেয়ের স্বামী বাড়ির বাইরে কাজে ছিলেন। ঝড়ের একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি বড় গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরের ভেতর চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে গাছ সরিয়ে ঘরের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহতের মেয়ে রহিমা বেগম বলেন, আমি সন্তানকে নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলাম। ঝড়ের খবর পেয়ে বাড়িতে এসে দেখি গাছ ঘরের ওপর পড়ে গেছে। এলাকাবাসী মিলে আমার মাকে উদ্ধার করে, কিন্তু তখন তিনি আর বেঁচে ছিলেন না।
স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, ঝড়ের সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক গাছপালা উপড়ে যায় এবং কয়েকটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোথাও কোথাও বিদ্যুতের তার ও মিটার ছিঁড়ে পড়ে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
২ নম্বর নন্নী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ এ কে এম মাহবুবুর রহমান রিটন বলেন, হঠাৎ শুরু হওয়া প্রচণ্ড ঝড়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাছ পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে, এমনকি কয়েকটি বিদ্যুতের খুঁটিও ভেঙে পড়েছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ইউনিয়নের নন্নী পশ্চিমপাড়া এলাকায় বেগম নামের এক বৃদ্ধা নারী রান্না করার সময় গাছচাপায় মর্মান্তিকভাবে মারা গেছেন।
তিনি আরও বলেন, শেরপুর-২ মাননীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী আমাকে ঘটনাস্থলে গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তাকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। খবর পেয়ে আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে এসেছি। আমি উনার আত্নার মাগফিরাত কামনা করি ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
নন্নী পশ্চিমপাড়া গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঝড়ের সময় বৃদ্ধা মহিলা ঘরে রান্না করছিলেন। হঠাৎ গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়ে গেলে তিনি চাপা পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।
স্থানীয়রা জানান, ঝড়ে নন্নী ইউনিয়ন–এর বিভিন্ন এলাকায় বহু গাছপালা ভেঙে পড়েছে। এতে কয়েকটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।
