
পবিত্র ঈদুল আজহা শুধু পশু কোরবানির আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ত্যাগ, সহমর্মিতা, মানবতা ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য শিক্ষা। সেই মহান শিক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ-মোকামতলা) আসনের হাজারো দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মুখে ঈদের আনন্দের হাসি ফোটালেন মীর শাহে আলম।
অভাব-অনটনের কারণে যারা বছরের পর বছর কোরবানির মাংসের স্বাদ থেকেও বঞ্চিত হন, এমন অন্তত ৫ হাজার অসহায়, নিম্নআয়ের ও দুস্থ মানুষের হাতে কোরবানির মাংস তুলে দেওয়া হয়েছে প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে ২০২৬) পবিত্র ঈদুল আজহার দিন উপজেলার শতাধিক গ্রামে একযোগে পরিচালিত হয় এই মানবিক কার্যক্রম।
ঈদের দিনে যখন অনেক পরিবারের আনন্দ সীমাবদ্ধ থাকে সামর্থ্যের গণ্ডিতে, তখন প্রতিমন্ত্রীর এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ অসংখ্য পরিবারের ঘরে এনে দেয় এক অন্যরকম প্রশান্তি ও আনন্দের আবহ। দীর্ঘদিন পর কোরবানির মাংস পেয়ে অনেকের মুখে ফুটে ওঠে তৃপ্তির হাসি, আবার আবেগে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন অনেকে। ছোট ছোট শিশুদের চোখেও দেখা যায় ঈদের নতুন উচ্ছ্বাস।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির আহ্বানে সাড়া দিয়ে আল খাইর ফাউন্ডেশন, আল মানাহিল ফাউন্ডেশন, ইসলামিক রিলিফ সেন্টার এবং বাংলাদেশ এডুকেশন ও টেকনোলজি সোসাইটি কোরবানির গরু প্রদান করে। পরে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামের মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয় কোরবানির মাংস।
জানা যায়, প্রতিটি এলাকায় আগে থেকেই সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়, যাতে প্রকৃত অসহায় ও দরিদ্র মানুষ এই সহায়তা পান। ফলে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সুন্দর পরিবেশে সম্পন্ন হয় পুরো কার্যক্রম।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বর্তমান সময়ে এমন মানবিক উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়। অনেক পরিবার রয়েছে, যারা বছরের এই একটি দিনেও সামর্থ্যের অভাবে সন্তানদের মুখে ভালো খাবার তুলে দিতে পারেন না। সেখানে প্রতিমন্ত্রীর এই উদ্যোগ যেন তাদের জন্য ঈদের প্রকৃত আনন্দ হয়ে এসেছে।
একজন বৃদ্ধা উপকারভোগী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “অনেক বছর পর আজ কোরবানির মাংস রান্না হবে। আল্লাহ প্রতিমন্ত্রী সাহেবকে ভালো রাখুক।”
আরেকজন দিনমজুর জানান, “ঈদের দিন সন্তানদের মুখে মাংস তুলে দিতে পারবো—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।”
এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরাও এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা বলেন, এটি শুধু একটি মাংস বিতরণ কর্মসূচি নয়; বরং সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদের জন্যও একটি মানবিক বার্তা। ঈদের প্রকৃত শিক্ষা যে ভাগাভাগি ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই নিহিত, প্রতিমন্ত্রীর এই কার্যক্রম সেটিকেই নতুনভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
মানবিকতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের এই অনন্য দৃষ্টান্তের মাধ্যমে আবারও সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।
