
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কৃতিসন্তান মীর লিয়াকত আলী একাধারে একজন স্বনামধন্য সাংবাদিক, শিক্ষানুরাগী, গীতিকার, চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক। বহুমুখী প্রতিভা ও সমাজকল্যাণে নিরলস অবদানের মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন মানবিক, সৃজনশীল ও আলোকিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে মীর লিয়াকত আলী সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। সমাজের নানা সমস্যা, সম্ভাবনা, উন্নয়ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরে তিনি গণমানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর লেখনী ও সংবাদ পরিবেশনা শুধু তথ্যই দেয় না, সমাজ পরিবর্তনের বার্তাও বহন করে।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন আমতলী মডেল স্কুল, যা অল্প সময়েই একটি সুনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। আধুনিক, মানসম্মত ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছে। শিক্ষাবান্ধব এই উদ্যোগের জন্য তিনি অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন মহলের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন।
সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতিও রয়েছে তাঁর গভীর অনুরাগ। একজন গীতিকার হিসেবে তিনি সমাজ, মানবতা, দেশপ্রেম এবং মানুষের জীবনসংগ্রামের নানা দিক নিয়ে অসংখ্য গান রচনা করেছেন। তাঁর সৃষ্টিশীলতা মানুষের অনুভূতি ও বাস্তব জীবনকে শিল্পের ভাষায় তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।
সম্প্রতি তিনি চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবে নতুন পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করেছেন। সমাজের বাস্তবতা, গ্রামীণ জীবনের গল্প, মানুষের স্বপ্ন ও সংগ্রামকে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরার প্রয়াস ইতোমধ্যেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর এই উদ্যোগ স্থানীয় শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
ব্যক্তিগত জীবনে মীর লিয়াকত আলী একজন বিনয়ী, সজ্জন ও উদার মনের মানুষ হিসেবে সুপরিচিত। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ তাঁর ব্যক্তিত্বকে আরও মহিমান্বিত করেছে। মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা তাঁকে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।
সাংবাদিকতা, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর সফল পদচারণা প্রমাণ করে যে, একাগ্রতা, সততা ও সৃজনশীলতা থাকলে একজন মানুষ সমাজে বহুমাত্রিক অবদান রাখতে পারেন। মীর লিয়াকত আলী আজ শুধু শিবগঞ্জের গর্ব নন, তিনি সমগ্র বগুড়ার জন্য এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব এবং আগামী প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম।
