
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের তোয়ালকুচি গ্রামে দীর্ঘদিনের পারিবারিক জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে চাচা-ভাতিজার মধ্যে চলমান বিরোধে নিজের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আনছার আলী। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, সংঘর্ষের ঘটনায় তিনিই হামলার শিকার হয়েছেন এবং সম্প্রতি তার খড়ের পালায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ঘিরে ভাতিজা জাহাঙ্গীর আলমের পরিবারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
আনছার আলী বলেন, পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টনে কোনো অনিয়ম হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তার বড় ভাই আতাহার আলীকে বাড়িভিটাসহ প্রায় নয় একর জমি দেওয়া হয়েছিল এবং পারিবারিকভাবে সম্পত্তি বণ্টনের কাজ আগেই সম্পন্ন হয়েছিল।
চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট পথ এখনো উন্মুক্ত রয়েছে এবং কাউকে সেখানে চলাচলে বাধা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, গত ১৫ মে ভাতিজা জাহাঙ্গীর আলম তাকে মারধর করেছিলেন। এ কারণে জাহাঙ্গীর নিজেই লজ্জাবোধ থেকে ওই পথ ব্যবহার করছেন না। তবে তার পরিবারের অন্য সদস্যরা নিয়মিত ওই পথ ব্যবহার করছেন। এমনকি দুই দিন আগেও তারা ওই পথ দিয়ে ধান বাজারে নিয়ে গেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সংঘর্ষের ঘটনার বিষয়ে আনছার আলী বলেন, “আমি একজন বয়স্ক মানুষ। জমির বিষয়ে ভাতিজা জাহাঙ্গীর আলমকে বুঝিয়ে বলতে গেলে সে আমাকে খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে ঘর থেকে একটি লাঠি এনে আমার পায়ে আঘাত করে। পরে নাকে ঘুষি মারলে আমি রক্তাক্ত হই।” তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন।
এদিকে, ১৫ জুন রাতের খড়ের পালায় আগুন লাগার ঘটনার বিষয়ে আনছার আলী বলেন, আগুন লাগার সময় তিনি জাহাঙ্গীর আলমের পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে খড়ের পালার দিক থেকে দৌড়ে চলে যেতে দেখেন এবং পরবর্তীতে তারা বাড়িতেও উপস্থিত ছিলেন। তবে তারা কেউ চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকেননি কিংবা আগুন নেভানোর কাজেও অংশ নেননি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জাহাঙ্গীর আলমের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আনছার আলী ওই পথ দিয়ে চলাচল করতে নিষেধ করায় তারা পথটি ব্যবহার করেন না। জাহাঙ্গীর আলমের বোন বলেন, আনছার আলীর করা মামলায় তার ভাই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তিনি দাবি করেন, তাদের পরিবারের কেউ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন।
অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে ঝিনাইগাতী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. আব্দুল মান্নান জানান, ১৫ জুন রাত ১১টা ২৫ মিনিটে ০১৭১২-৪৭১৪০৫ নম্বর থেকে আগুন লাগার খবর পান তারা। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়ে রাত ১১টা ৫০ মিনিটে সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে এবং রাত ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি আরও জানান, ১৬ জুন দুপুর ১টার দিকে একই স্থান থেকে পুনরায় আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান এবং সম্পূর্ণভাবে আগুন নেভাতে সক্ষম হন। তার ধারণা, খড়ের পালার নিচের দিকে কিছু আগুন রয়ে গিয়েছিল, যা পরদিন আবার জ্বলে ওঠে।
উল্লেখ্য, মৃত তোরাব আলীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিয়ে কয়েক বছর ধরে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে। তবে এসব অভিযোগের কোনোটি এখনো প্রশাসনিক তদন্ত বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হবে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
