
ধোবাউড়ায় চার বছর সাত মাস বয়সী শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: তিন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার, এলাকায় ক্ষোভ
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাংগাটির গ্রামে চার বছর সাত মাস বয়সী শিশু নিছামনিকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। নির্মম এ ঘটনায় স্থানীয় জনমনে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। স্থানীয় সূত্র ও পরিবার থেকে জানা যায়, ঘটনার শিকার শিশু নিছামনি (৪ বছর ৭ মাস) গত কয়েকদিন আগে নিখোঁজ হওয়ার পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে ধর্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে ময়মনসিংহে পাঠিয়েছে পুলিশ।
অপর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকেই টাংগাটির গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন বর্বর ও অমানবিক ঘটনা তাদের কখনোই দেখতে হয়নি। একটি নিষ্পাপ শিশুর ওপর এ ধরনের নৃশংসতা পুরো সমাজকে নাড়া দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শুধু গ্রেপ্তার করলেই হবে না, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তারা মনে করেন, দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ কমে আসবে। নিহত শিশুর পরিবার কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তাদের আদরের সন্তানকে আর কখনো ফিরে পাওয়া যাবে না। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষায়, “নিছামনির মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত দেখতে চাই।”
প্রতিবেদন: মোবারক হোসেন,
ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি
