
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত বগুড়ার মোকামতলার বিশ্বরোড এলাকায় মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড ও বিভিন্ন দোকানপাট। এসব অপরিকল্পিত স্থাপনার কারণে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, এবং প্রায়ই ঘটছে মারাত্মক দুর্ঘটনা। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পথচারী ও যাত্রীরা। তবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষের কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের মোকামতলার বিশ্বরোড এলাকায় রাস্তার ধীরগতির লেনে ফলের দোকান, শরবতের দোকানসহ বিভিন্ন অবৈধ দোকানপাট গড়ে উঠেছে। মহাসড়কের পশ্চিম পাশে মোকামতলা টু জয়পুরহাট এবং পূর্ব পাশে মোকামতলা টু রহবল ও মোকামতলা টু বগুড়া সিএনজি স্ট্যান্ডে অসংখ্য অটোরিকশা সারিবদ্ধভাবে রাখা হচ্ছে। এতে সড়ক ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে, যা যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
একই অবস্থা মোকামতলা-সোনাতলা সড়কেও। এই সড়কে পরপর দুটি অটোভ্যান স্ট্যান্ড রাস্তার ওপর গড়ে উঠেছে, যার ফলে সড়কটি সংকুচিত হয়ে সারাদিন যানজট লেগে থাকে।
মোকামতলার বিশ্বরোড এলাকা বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এই পথ অতিক্রম করতে হয়। প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার যাত্রী গণপরিবহনে উঠানামা করেন। মহাসড়কের পশ্চিম পাশে ইউনিয়ন পরিষদ, মোকামতলা মহিলা ডিগ্রি কলেজ, মোকামতলা উচ্চ বিদ্যালয়, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জামে মসজিদ, রাজনৈতিক দলের কার্যালয়, খেলার মাঠ ও বেসরকারি সংস্থার কার্যালয় রয়েছে। পূর্ব পাশে রয়েছে মোকামতলা ইউনিয়নের বৃহৎ হাট, সরকারি ভূমি অফিস, প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, সোনালী ব্যাংক, রুপালী ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে হাজারো মানুষকে মহাসড়ক পারাপার করতে হয়। কিন্তু অবৈধ দোকানপাট ও অটোরিকশার কারণে পথচারীদের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
মোকামতলা বন্দরের এস.আর পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার আবু জাফর বলেন, “এই মহাসড়ক অত্যন্ত ব্যস্ত। অটোরিকশা ও দোকানপাটের কারণে আমরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়ছি। যানজটের কারণে যাত্রীদের সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”
বগুড়া টু গোবিন্দগঞ্জগামী কয়েকজন সিএনজি চালক জানান, “ধীরগতির লেন দোকানপাট ও অটোরিকশা দখল করে নিয়েছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে দ্রুতগতির লেন দিয়ে চলতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।”
বগুড়া সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ জানান, “এ বিষয়ে সাসেক প্রকল্প কাজ করছে। মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণের টাকা জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আগামী দুই-এক সপ্তাহের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, “মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমাদের কার্যক্রম চলমান। খুব শিগগিরই অবৈধ দোকানপাট ও অটোরিকশা অপসারণ করা হবে।”
মোকামতলার মহাসড়কের এই অবৈধ দখলদারিত্ব ও যানজটের সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা কর্তৃপক্ষের কাছে কার্যকর উদ্যোগ কামনা করছেন, যাতে মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল ও পথচারীদের নিরাপদ চলাফেরা নিশ্চিত হয়।
