
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা সড়ক টিআর (নগদ টাকা) কর্মসূচির আওতায় সংস্কার ও মেরামত করায় স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে। একসময় বড় বড় গর্ত, কাদা ও কর্দমাক্ত অংশে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়া সড়কগুলো এখন ব্যবহার উপযোগী হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষের মধ্যে। তবে এই স্বস্তিকে স্থায়ী করতে দ্রুত সড়কগুলো পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা) ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর/নগদ টাকা) কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের সাধারণ খাতের আওতায় পোড়াগাঁও ইউনিয়নে তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেকিকুড়া–পোড়াগাঁও–বুনারপাড়া এলাকায় মফিজলের বাড়ি থেকে বুনারপাড়া কবরস্থানগামী প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক মেরামত, পশ্চিম সমস্ফূড়া জাঙ্গালিয়াপাড়ায় আল আমিনের বাড়ি থেকে আহাম্মদের বাড়িগামী কাঁচা সড়ক সংস্কার এবং পলাশীকুড়া স্কুল মোড় থেকে রইজ উদ্দিনের দোকানগামী সড়ক মেরামত।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সড়কগুলো বড় বড় গর্ত ও কর্দমাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় বর্ষা মৌসুমে চলাচল চরম দুর্ভোগে পরিণত হয়েছিল। কৃষকরা ধানসহ কৃষিপণ্য বাজারে নিতে পারতেন না, রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ত, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত ব্যাহত হতো এবং সাধারণ মানুষ বাজার, মসজিদসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজে চরম ভোগান্তির শিকার হতেন।
বুনারপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল হালিম জানান, বছরের পর বছর ভাঙাচোরা সড়কের কারণে মানুষের দুর্ভোগ ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। সংস্কারের পর এখন স্বস্তিতে চলাচল করা যাচ্ছে।
একই গ্রামের মো. আবু তাহের বলেন, আগে ধান বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে অনেক কষ্ট হতো। বর্তমানে রাস্তা সংস্কার হওয়ায় কৃষিপণ্য পরিবহন অনেক সহজ হয়েছে।
পলাশীকুড়া গ্রামের আহাম্মদ আলী মাস্টার বলেন, এই সড়কগুলো কয়েকটি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সংস্কারকাজ প্রশংসনীয় হলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত পাকাকরণ প্রয়োজন।
একই গ্রামের মোছা. হামেলা বেগম জানান, আগে অসুস্থ রোগী হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এখন অন্তত দ্রুত যানবাহন চলাচল করতে পারছে।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম মো. হাবিবুর রহমান (চান মিয়া) বলেন, আগে বিশেষ করে রাতে মসজিদে যেতে ভয় ও কষ্ট দুটোই ছিল। রাস্তার বড় বড় গর্তের কারণে চলাচল ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। এখন পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে।
রওশনারা একাডেমির ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান নুর ও কলেজছাত্র মনির হোসেন জানান, বৃষ্টি হলেই আগে স্কুল-কলেজে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত। বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করতে পারছেন।
দুলাল মিয়া, রমজান আলী, শাহ্ আলম, আব্দুল হাই, সপন মিয়া, খুদেজা বেগম, আব্দুল হামিদ ও হাসু মিয়াসহ অন্য বাসিন্দারাও বলেন, সড়ক সংস্কারে সাময়িক স্বস্তি মিলেছে। তবে বর্ষা মৌসুমে যাতে আবারও একই দুর্ভোগে পড়তে না হয়, সেজন্য দ্রুত সড়কগুলো পাকাকরণ করা প্রয়োজন।
পোড়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও একটি প্রকল্পের সভাপতি আলহাজ মো. জামাল উদ্দিন বলেন, টিআর প্রকল্পের আওতায় সড়কগুলো সংস্কার করায় সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধা হয়েছে। তবে স্থায়ীভাবে জনদুর্ভোগ দূর করতে সড়কগুলো পাকাকরণ জরুরি। তিনি এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সাময়িক সংস্কারের পাশাপাশি দ্রুত টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে সড়কগুলো পাকাকরণ করা হলে প্রায় ১০টি গ্রামের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ-দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটবে।
