
স্টাফ রিপোর্ট –
মোঃ আনোয়ার হোসেন
সহ-সম্পাদক
জনগনেরকন্ঠ ডটকম
১/১১-এর দুঃসময়, ডামি নির্বাচন বর্জন, করোনা মহামারী এবং জুলাই বিপ্লবে মাঠের এই নেতার রাজনৈতিক পথপরিক্রমা-
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার ও বিএনপির অন্যতম রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে পরিচিত বগুড়া। এই অঞ্চলের তৃণমূল রাজনীতিতে রাজপথের এক বিশ্বস্ত ও লড়াকু নাম মাফতুন আহমেদ খান রুবেল। তিনি বর্তমানে বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং আসন্ন সদর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ১/১১-এর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লব—প্রতিটি ঐতিহাসিক ও সংকটাপন্ন মুহূর্তে রাজপথে তার সক্রিয় ভূমিকা দলের ভেতরে ও বাইরে তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
১/১১-এর ক্রান্তিকাল: মাইনাস-টু ফর্মুলার বিরুদ্ধে তৃণমূলের ঢাল-
২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন (১/১১) পরবর্তী সময়ে যখন দেশীয় রাজনীতিতে ‘মাইনাস-টু ফর্মুলা’ বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছিল এবং বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে বন্দি করা হয়েছিল, তখন বগুড়ার তৃণমূল বিএনপিকে ধরে রাখার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন মাফতুন আহমেদ খান রুবেল। সংস্কারপন্থীদের নানামুখী তৎপরতা এবং তৎকালীন প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও ত্রাসের রাজত্ব উপেক্ষা করে তিনি দলের মূল ধারার প্রতি অবিচল ছিলেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং জিয়া পরিবারের নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল থাকার বার্তা তৃণমূলের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন এই নেতা।
ডামি নির্বাচন বর্জন আন্দোলন: সাংগঠনিক কড়া নজরদারি-
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো ‘ডামি নির্বাচন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বর্জনের ডাক দেয়। দলের একজন একনিষ্ঠ সংগঠক হিসেবে মাফতুন আহমেদ খান রুবেল বগুড়া সদর উপজেলায় কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত শতভাগ বাস্তবায়নে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলেন। নির্বাচন বর্জনের লক্ষ্যে তিনি তার অধীনস্থ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডগুলোতে লাগাতার লিফলেট বিতরণ এবং জনসংযোগ পরিচালনা করেন। দলীয় নেতাকর্মীদের কেউ যাতে এই পাতানো নির্বাচনে অংশ না নেয় বা ছদ্মবেশে কারো পক্ষে কাজ না করে, সে বিষয়ে তিনি কঠোর সাংগঠনিক নজরদারি ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করেছিলেন।
স্বৈরাচার হাসিনার সময় হমলা ও মামলা–
স্বৈরাচার হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে বগুড়ার প্রথম মামলার আসামি আবার হাসিনা পালানোর ৮ ঘন্টা আগেও যে মামলা হয়েছিল সেই মামলারও ৩ নম্বর আসামি ছিলেন সব মিলিয়ে অর্ধ শতাধিক রাজনৈতিক মামলায় নির্যাতিত হয়েছে বছরের পর বছর ফেরারি জীবনে থেকে আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ৩ বার কারাভোগ করতে করেছেন, তবুও নিজের অবস্থানে অটুট ছিলেন।
করোনা কালীন সময়: রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত-
২০২০ ও ২০২১ সালের বৈশ্বিক করোনা মহামারীর চরম সংকটের সময়ে মাফতুন আহমেদ খান রুবেল বগুড়াবাসীর কাছে এক মানবিক নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। সরকারি কঠোর বিধিনিষেধ ও লকডাউনের ফলে কর্মহীন হয়ে পড়া বগুড়া সদরের দরিদ্র, দিনমজুর ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাঝে তিনি ব্যক্তিগত তহবিল ও দলীয় ব্যবস্থাপনায় নিরবচ্ছিন্নভাবে খাদ্যসামগ্রী, নগদ অর্থ এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন। নিজের জীবনঝুঁকি নিয়ে মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিয়ে তিনি প্রমাণ করেন যে, রাজনীতি কেবল ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের কল্যাণের জন্যও।
জুলাই বিপ্লব ও বর্তমান ভূমিকা: শান্তিশৃঙ্খলা ও আধুনিক নগর গঠনে অগ্রণী-
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং পরবর্তী ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে মাফতুন আহমেদ খান রুবেল বগুড়ার রাজপথে সক্রিয় রাজনৈতিক ও নৈতিক সমর্থন দেন। স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর বর্তমানে তিনি বগুড়া শহরের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বগুড়ায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে প্রশাসনের হয়ে আলোচনা এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা এড়াতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে “বগুড়াকে পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগরী গড়ে তোলার” লক্ষ্যে গঠিত ৭ সদস্যের বিশেষ কমিটিতেও তিনি অংশীজন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
তৃণমূলের মূল্যায়ন:
বগুড়া সদর উপজেলার সাধারণ ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, মাফতুন আহমেদ খান রুবেল কেবল সংকটের বন্ধুই নন, বরং একজন দূরদর্শী সংগঠক। আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তার এই দীর্ঘ ত্যাগ ও রাজপথের আপসহীন ভূমিকাই তাকে জনসমর্থনে এগিয়ে রাখছে। তিনি আগামী দিনে বগুড়া সদর আসন থেকে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তথা দলীয় চেয়ারম্যানের হাতকে শক্তিশালী করতে তৃণমূলকে সুসংগঠিত করার কাজ অব্যাহত রেখেছেন।
