
নওগাঁ সদর উপজেলার পিরোজপুর মৌজায় পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল, পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোনালিসা হাবিব। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) নওগাঁ শহরে সুলতানপুর বটতলা মোড়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়জন করে, তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে মোনালিসা হাবিব দাবি করেন, দলিল ও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত পিরোজপুর মৌজার একাধিক দাগের জমি তিনি ও অন্যান্য ওয়ারিশ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। তাদের নানা মরহুম মফিজ উদ্দিন আহমেদের মৃত্যুর পর পারিবারিকভাবে প্রথমে মৌখিক এবং পরে অধিকাংশ ওয়ারিশের সম্মতিতে লিখিত বণ্টনের মাধ্যমে যার যার অংশ বুঝে নেওয়া হয়।
তার অভিযোগ, সম্প্রতি আমন ধান রোপণের মৌসুমে প্রথম পক্ষের উত্তরসূরি মাসুম ও তার স্ত্রী, নওগাঁ পুলিশ লাইনে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক শিউলী, অন্যান্য ওয়ারিশকে না জানিয়ে তার অংশের জমিতে জোরপূর্বক দখল নেন। এ সময় পুলিশি প্রভাব খাটিয়ে বর্গাদারকে ভয়ভীতি দেখানো, সীমানা চিহ্ন অপসারণ, সাইনবোর্ড খুলে ফেলা এবং জমিতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় গত ২৯ মার্চ নওগাঁ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ, ৫ মে পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন এবং ২১ জুলাই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশ সুপারের নির্দেশে একজন তদন্ত কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্তও করেছেন। তবে তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায়ও অভিযুক্তরা পুনরায় জমি দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বগুড়ার তালোড়া এলাকায় অবস্থিত প্রায় ৫ বিঘা বণ্টনযোগ্য সম্পত্তির একটি অংশও অন্যান্য ওয়ারিশকে না জানিয়ে বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দাগের জমির সামনের অংশ জোরপূর্বক দখলে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।
মোনালিসা হাবিব বলেন, বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন। তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তার ও অন্যান্য ওয়ারিশের সম্পত্তি দখলমুক্ত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান।
ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার নওগাঁর কমান্ডেন্ট পুলিশ সুপার তারেক আহম্মেদ বিপিএম (সেবা) বলেন, এ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোঃ মোস্তফা কামাল বিষয়টি গভীর ভাবে তদন্ত করছেন। যদি পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক শিউলীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তার কর্মস্থলে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে পরবর্তীতে তিনি মুঠোফোনে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি সাক্ষাৎ করে তার বক্তব্য প্রকাশের অনুরোধ জানান। এসকল জমাজমির বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, এগুলো আমার স্বামী বা তার ওয়ারিশদের বিষয়, আমি কেন এসকল বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে যাব? আমি একজন সরকারি চাকুরীজীবী মানুষ আমাকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা করছে প্রতিপক্ষ। দয়া করে আমাকে এসকল জমির বিষয়ে জড়াবেন না। আমি একজন পুলিশ কর্মকর্তা আমার এতটুকু আইনগত জ্ঞান আছে, যে আমি কি করতে পারবো কিংবা করতে পারবো না। প্রতিপক্ষের দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষীতে বর্তমান তদন্ত চলছে, আমি এবিষয়ে কোন আর মন্তব্য করতে রাজি না, সঠিক তদন্তে সত্যি সবকিছুই বেড়িয়ে আসবে।
