
আবদুর রহমান সুহাইলের অযৌক্তিক দাবি:
❝আপনি যদি ১ টনের একটি বস্তুকে মাত্র ১ মিটার উপর থেকে ছেড়ে দেন, তবে সেটি শক্তি উৎপন্ন করতে করতে নিচে নামবে। সেই শক্তিকে আমরা লেভারের (Lever) মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে পারি।
কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত প্রশ্ন হলো, একটি ইঞ্জিন তো অনবরত ৩৬০ ডিগ্রিতে ঘুরতে থাকে। ক্র্যাঙ্কশ্যাফটের মাধ্যমে ১ টন নিচে নামার পর, সেটিকে তো আবার ১ টন বল প্রয়োগ করেই উপরে তুলতে হবে! আমার ইঞ্জিনের মূল উদ্ভাবনটা এখানেই।
বস্তুটি যখন নিচে নামবে, তখন আমরা শক্তি সঞ্চয় করব। আর যখন উপরে উঠবে, তখন বস্তুর ওজন নিজে নিজেই শূন্য হয়ে যাবে! আমার ইঞ্জিনে মোট দুটি চেম্বার থাকবে এবং এভাবেই ইঞ্জিনটি অনবরত ৩৬০ ডিগ্রিতে ঘুরতে থাকবে।❞
এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ❝গত ৬ তারিখ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী/কর্তা ব্যক্তির সঙ্গে তিনি দেখা করেন। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাকে লিখিত প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয় এবং সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর থেকে তিনি আর কোনো আপডেট পাননি।❞
পুরো সাক্ষাৎকারটি খেয়াল করলে দেখা যায়, উদ্ভাবক তার তৈরি প্রোটোটাইপটিকে (Prototype) ৩৬০ ডিগ্রিতে অনবরত ঘুরিয়ে দেখাতে পারেননি। এর মূল কারণ পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক নিয়মাবলি এমন যন্ত্রের অস্তিত্বকে সরাসরি নাকচ করে।
তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র (Second Law of Thermodynamics) অনুযায়ী, কোনো সিস্টেমে যে পরিমাণ শক্তি ইনপুট হিসেবে দেওয়া হয়, আউটপুট হিসেবে কখনোই সমপরিমাণ কাজ পাওয়া সম্ভব নয়। শক্তির কিছু অপচয় হবেই। ফলে একবার শক্তি দিলে তা দিয়ে যন্ত্র আজীবন স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে পারে না, যদি না বাইরে থেকে শক্তি পুনরায় দেওয়া হয়। একারণেই নাগরদোলা ঘুরানোর সময় একজন ব্যক্তি কিংবা একটি জেনারেটরের সাহায্যে একে বাইরে থেকে শক্তি দিয়ে অনবরত ঘুর্ণনশীল রাখা হয়।
সুহাইল দাবি করেছেন যন্ত্রটি উপরে ওঠার সময় বস্তুটির “ওজন নিজে নিজেই শূন্য হয়ে যাবে” কিন্তু এর কোনো পদার্থবিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা বা প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি।
সংক্ষেপে, বিজ্ঞানের ভাষায় এটি একটি “Perpetual Motion Machine” বা স্বয়ংচল যন্ত্রের ভ্রান্ত ধারণা। তাপগতিবিদ্যা ও শক্তি সংরক্ষণশীলতার সূত্র লঙ্ঘন করার কারণে বাস্তবে এমন ইঞ্জিন তৈরি করা কখনোই সম্ভব নয়।
![]()
