
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের গিলাগাছা মৌজায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রাতের আঁধারে রোপণ করা আমন ধান তুলে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাবিবুর রহমান দুলাসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ৯ জনের বিরুদ্ধে ঝিনাইগাতী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন জমির মালিক মো. খোরশেদ আলম।
থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গিলাগাছা মৌজায় খোরশেদ আলমের ক্রয় ও পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমি রয়েছে। এর মধ্যে বি.আর.এস. ১৩৬ নম্বর খতিয়ানের ১১৫৫ নম্বর দাগে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২৮ নম্বর খতিয়ানের ১১৩২ ও ১১৩৪ নম্বর দাগে ২৪ শতাংশ—মোট ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ জমিতে তিনি আমন ধান রোপণ করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ১৮ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১৯ আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টার মধ্যে কোনো এক সময় কয়েকজন তার জমিতে ঢুকে রোপণ করা আমন ধান তুলে নষ্ট করেন। এতে তার আনুমানিক ১৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মো. খোরশেদ আলম বলেন, ১৯ আগস্ট সকাল ছয়টার দিকে জমিতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, রোপণ করা আমন ধানের চারা তুলে ফেলা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানান তিনি। তার দাবি, ঘটনার রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জমির আশপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে বলে স্থানীয় কয়েকজন তাকে জানিয়েছেন।
খোরশেদ আরও বলেন, আমি আমার জমিতে আমন ধান রোপণ করেছিলাম। রাতের আঁধারে আমার রোপণ করা ধান তুলে নষ্ট করা হয়েছে। এতে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চাই।
ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা হাবিবুর রহমান দুলার বিরুদ্ধে ধান নষ্ট করার অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, দুলা তাদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় ধান নষ্ট করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। বিভিন্ন জায়গায়ও তিনি এ বিষয়ে বলে বেড়াচ্ছেন বলে তাদের ভাষ্য।
এলাকাবাসী মো. আ. রশিদ বলেন, দুলা আমার কাছেই ধান নষ্ট করার কথা স্বীকার করেছে। পরে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন মানুষের কাছেও সে বলেছে যে, ধান সে-ই নষ্ট করেছে।
এলাকাবাসী মো. হাবেজ আলী বলেন, দুলা নিজেই আমাদের কাছে ধান নষ্ট করার কথা বলেছে। শুধু আমাদের কাছেই নয়, এলাকার আরও অনেক মানুষের কাছেও সে এ কথা বলে বেড়াচ্ছে।
বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের বংশীয় ভাই মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, দুলা নিজেই বলেছে যে, সে ধান নষ্ট করেছে। বিভিন্ন জায়গায়ও মানুষের কাছে এ কথা বলেছে। দুই পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু কারও রোপণ করা ধান নষ্ট করা ঠিক হয়নি।
বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের বংশীয় ভাই মো. আ. রউফ বলেন, ধান নষ্ট করার কথা দুলা নিজেই স্বীকার করেছে। বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময়ও সে বিষয়টি জানিয়েছে। জমি নিয়ে যে বিরোধ আছে, সেটি আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা হওয়া দরকার।
এলাকাবাসী লাল মিয়া বলেন, দুলা ধান নষ্ট করার কথা নিজেই বলেছে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি, মেম্বার, চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও আইনজীবীসহ অনেকে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মীমাংসা হয়নি। কারও রোপণ করা ধান নষ্ট করা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে হাবিবুর রহমান দুলার বাড়িতে গিয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ছেলে মো. আলমগীর ও মো. আল আমিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা এমন কিছু করিনি।
ঝিনাইগাতী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কানাই লাল চক্রবর্তী দৈনিক জনগণের কন্ঠ’কে বলেন, আমি ঘটনাস্থলে যাইনি, আমার সহকারীকে পাঠিয়েছিলাম। সেখানে ধান নষ্ট হওয়ার বিষয়টি এবং এতে ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা পাওয়া গেছে।
