
নওগাঁর বদলেগাছী উপজেলার মতো স্থানীয় এলাকাগুলোতে যখন মাদকের বিস্তার দেখা যায়, তখন সাধারণ ও সচেতন নাগরিকদের মনে এই ধরনের গভীর উদ্বেগ ও আক্ষেপ তৈরি হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক। দায়িত্বশীলদের ভূমিকা ও সচেতন সমাজের প্রশ্ন??
একটি উপজেলার সামাজিক অবকাঠামোর মূল ভিত্তি তৈরি হয় এর ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে। বদলেগাছী উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন, ৮ জন চেয়ারম্যান, ৭২টি ওয়ার্ড, ৯৬ জন সাধারণ ও সংরক্ষিত মেম্বার এবং ৭২ জন গ্রাম পুলিশ—এত বড় একটি প্রশাসনিক ও সামাজিক নেটওয়ার্ক থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি ওয়ার্ডে মাদকের বিস্তার একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয়।
ওয়ার্ড পর্যায়ে কার এলাকায় কী ঘটছে, সে বিষয়ে ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশদের নজরদারি থাকার কথা। কিন্তু মাদক নির্মূলে তাদের কার্যকর কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ কেন দেখা যাচ্ছে না?
নির্বাচন এলে প্রার্থীরা সমাজ পরিবর্তনের নানা প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু সমাজের যুবসমাজ যখন মাদকের ভয়াল থাবায় ধ্বংসের মুখে, তখন তাদের নীরবতা কি পরোক্ষ প্রশ্রয় হিসেবে গণ্য হয় না? প্রতিদিন মাদকের কারণে কোনো না কোনো পরিবার ধ্বংস হচ্ছে, উদীয়মান তরুণেরা পথ হারাচ্ছে। সমাজের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্বশীলদের টনক নড়তে আর কতগুলো পরিবার নিঃস্ব হতে হবে?
সমাজকে মাদকমুক্ত করতে হলে কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না; ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের সততা ও কঠোর পদক্ষেপই পারে বদলেগাছীকে এই ভয়াল থাবা থেকে মুক্ত করতে।
