
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার চেঙ্গাইন মৌজার রেকর্ডীয় জমিতে প্রকৃত স্বত্বাধিকারীদের বাদ দিয়ে বেআইনিভাবে ও জাল দলিল তৈরি করে তা গোপন করে একতরফা রায় হাসিল করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিজ্ঞ সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোনারগাঁয়ের আদালতের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর আদালতে মিস আপিল দায়েন করেছেন ভুক্তভোগী ক্রেতা ও মালিকপক্ষ।
আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলার অন্তর্গত চেঙ্গাইন মৌজার এস.এ ১৫৭ ও আর.এস ১২১ নং খতিয়ানের সি.এস ও এস.এ ৪০৯ নং দাগের আর.এস৬৮১ ও ৬৮২ নং দাগের জমি নিয়ে মামলাটির সূত্রপাত।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, উক্ত নালিশা জমির মূল এস.এ ও আর.এস রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন ওমর আলী ও আস্তাবউদ্দীন। আইনানুগ হস্তান্তরের পর্যায়ক্রমিক ধারাবাহিকতায় এবং রেজিস্ট্রিকৃত সাফ-কবলা দলিল (যেমন: দলিল নং- ৪০৪৪, তারিখ: ২২/০৩/২০২৩) এবং সরকারের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের নামজারি ও জমাভাগ (মোকদ্দমা নং- ৩৪৫/২৩-২৪) মূলে বর্তমানে নালিশা জমিটিতে বৈধ মালিক হিসেবে ভোগদখলে আছেন মোঃ সুজন (পিতা: মৃত ইয়ানুছ আলী) ও মোসাঃ নুসরাত জাহান। তারা জমিতে চারপাশ দিয়ে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করে গাছপালা সৃজনসহ শান্তিপ্রিয়ভাবে অবস্থান করছেন।
অভিযোগে প্রকাশ, মূল রেসপনডেন্ট মোঃ শামছুল হক সোনারগাঁ ভূমি আদালতে (বিবিধ মোকদ্দমা নং ৪১৮/২০২৫) বর্তমান স্বত্বাধিকারী ও প্রকৃত ভোগদখলকার মোঃ সুজন ও নুসরাত জাহানকে পক্ষভুক্ত বা বিবাদী না করে এবং বিবাদীরা জাল দলিল তৈরি করে একতরফা ভাবে গত ১৫/০৬/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে একটি আদেশ ও রায় হাসিল করেন। ভুক্তভোগীরা বিষয়টি জানতে পেরে দলিল তল্লাশী দিতে গিয়ে জানতে পারেন যে বিবাদীদের দলিল টি জাল, দলিলের কোনো সঠিক প্রমান পাওয়া যায়না। এর পরপরই নথিপত্র উত্তোলন ও রেজিস্ট্রি অফিসের সায়রাত তলাশ করে উক্ত আদেশের আইনি বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর আদালতে ‘মিছ আপীল নং ৩২২/২০২৬’ দায়ের করেছেন।
আপিলকারী মোঃ সুজন জানান, “আমরা আইনানুগ রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে জমি ক্রয় করে ও নামজারি সম্পন্ন করে নিয়মিত খাজনা পরিশোধপূর্বক সুদীর্ঘদিন যাবৎ দখলদার রয়েছি। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা গোপন করে আমাদেরকে কোনো নোটিশ না দিয়ে গোপনে একতরফা রায় হাসিল করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অন্যায় ও বিচারনীতির পরিপন্থী। আমরা বিজ্ঞ আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছি।”
আপিলে উল্লেখ করা হয়েছে, নিম্নাঞ্চলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আইনানুযায়ী প্রকৃত দখলকার ও দলিলপত্রের ধারাবাকিকতা বিবেচনা না করেই এবং জেনেশুনে প্রকৃত মালিকদের বাদ দিয়ে অযৌক্তিক রায় প্রদান করেছেন। বর্তমানে বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ভুক্তভোগী পক্ষ আশা প্রকাশ করছেন, নথিপত্র ও দলিলের ধারাবাহিকতা যাচাই করে বিজ্ঞ আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন এবং পূর্বের ভুল আদেশটি রহিত করবেন।
