
নওগাঁর ধামইরহাটে কবর খুঁড়ে মরদেহের কঙ্কাল চুরির অভিযোগ উঠেছে এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। স্পর্শকাতর এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত ব্যক্তির প্রতি অসম্মানজনক এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৬ নম্বর জাহানপুর ইউনিয়নের বড়শিবপুর কাজিপাড়া গ্রামে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থী একই এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলামের ছেলে এবং কাজিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত মাস আগে কাজিপাড়া এলাকায় জগদল আদিবাসী স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইলিয়াস আলমের বাবা মোখলেছুর রহমানকে দাফন করা হয়। সম্প্রতি পরিবারের সদস্যরা কবরস্থানে গিয়ে কবরের মাটি খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারেন, কবর থেকে মরদেহের কঙ্কাল চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে আশপাশের এলাকার লোকজন কবরস্থানে জড়ো হন। পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর শুরু হলে ওই শিক্ষার্থীর নাম সামনে আসে বলে দাবি করেন মৃত মোখলেছুর রহমানের ছেলে ও জগদল আদিবাসী স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইলিয়াস আলম।
অধ্যক্ষ মো. ইলিয়াস আলম বলেন, শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও এলাকার শত শত মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ওই শিক্ষার্থী কঙ্কাল চুরির বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তার দাবি, প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন আগে কবর থেকে কঙ্কালটি চুরি করা হয়। তিনি এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত প্রতিকার দাবি করেন।
তবে স্থানীয়ভাবে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিষয়টি কীভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে বা শিক্ষার্থীর বক্তব্যের সত্যতা কী—তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জাহানপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মওদুদ আহমেদ মহিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। শুক্রবার দুপুরের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছু জানি না’—এরপর ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিন্টু রহমান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে কবর থেকে কঙ্কাল চুরির অভিযোগের ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
