
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার পাইকুড়া এ আর পি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মতিউর রহমানের নিয়োগপ্রক্রিয়া, বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয় এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. মনিরুজ্জামান তুষার (তুহিন)। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) পাইকুড়া এ আর পি উচ্চ বিদ্যালয়ের গেটের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মনিরুজ্জামান তুষার এসব অভিযোগ করেন। তিনি নিজেকে এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মো. মতিউর রহমান ১৯৮৭ সালে পাইকুড়া এ আর পি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। ওই নিয়োগ কোন শূন্য পদে বা সৃষ্ট পদের বিপরীতে হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানান মনিরুজ্জামান। তার অভিযোগ, নিয়োগের বৈধতা যাচাই করা প্রয়োজন।
মতিউর রহমানের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার দাবি, ১৯৯৭ সালের ২২ মার্চ তৎকালীন সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. মোজাফফর আলীর মৃত্যুর পর পদটি শূন্য হয়। পরে ২০০১ সালের ২৯ মে জাতীয় পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বিদ্যালয়ের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আবেদন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়, সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে মাত্র দুজন আবেদনকারী থাকা সত্ত্বেও পুনরায় বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে তাদের নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং পরে নিয়োগসংক্রান্ত রেজুলেশনে ঘষামাজা করে আবেদনকারীর সংখ্যা তিনজন দেখানো হয়েছে। এ বিষয়ে নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ও সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশের দাবি জানান মনিরুজ্জামান।
বর্তমান প্রধান শিক্ষক পদে মতিউর রহমানের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার অভিযোগ, ওই নিয়োগে কোনো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। কতজন আবেদন করেছিলেন, যাচাই-বাছাই কমিটি কারও আবেদন বাতিল করে থাকলে কী কারণে তা করা হয়েছিল—এসব বিষয় তদন্তের দাবি জানান তিনি।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও তাকে নিয়মিত বেতন-ভাতা দেওয়ার অভিযোগ করেন মনিরুজ্জামান। বিদ্যালয়ের মার্কেট ভাড়াসহ বিভিন্ন আয়ের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে স্কুল চলাকালে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের পোশাক পরিয়ে মানববন্ধনে দাঁড় করানোর অভিযোগও করা হয়। মনিরুজ্জামানের দাবি, অভিভাবক সভার কথা বলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিদ্যালয়ে ডেকে এনে পরে মানববন্ধনে দাঁড় করানো হয়। বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানান তিনি।
লিখিত বক্তব্যে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়েও অভিযোগ করা হয়। প্রধান শিক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে কমিটি গঠনে বিলম্ব করছেন বলে দাবি করেন মনিরুজ্জামান। তার অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের চাকরির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং এরপর দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে একজন শিক্ষকের। তাকে দায়িত্ব না নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া ভবিষ্যতে কমিটি গঠন ও নিয়োগকে কেন্দ্র করে ‘নিয়োগ বাণিজ্যের’ আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন মনিরুজ্জামান। এ বিষয়ে তার কাছে প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মো. মতিউর রহমানকে ঋণখেলাপি দাবি করে দুটি মামলার কথাও উল্লেখ করেন মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, এসব বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
লিখিত বক্তব্যের শেষ দিকে মনিরুজ্জামান বলেন, জনমতকে উপেক্ষা করে অ্যাডহক কমিটির নামে কোনো ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হলে তা নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটলে এর দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিতে হবে।
