
বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার জুরি দক্ষিণপাড়া গ্রামে রাতের আঁধারে কীটনাশক স্প্রে করে কৃষক মোঃ রুবেল মিয়ার কলার বাগান নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার প্রায় ৭০ পিস কলা নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক। এতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্র ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সূত্রে জানা যায়, কৃষক রুবেল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। জীবিকার অন্যতম অবলম্বন হিসেবে তিনি প্রায় এক বছর ধরে নিজের জমিতে কলা চাষ করে আসছিলেন। কলাগাছের পরিচর্যা, সার, সেচ, শ্রমিকসহ বিভিন্ন খাতে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অর্থ ও শ্রম ব্যয় করেন। ধীরে ধীরে তার বাগানের কলাগুলো বড় হয়ে ওঠে এবং বিক্রির উপযোগী হওয়ার অপেক্ষায় ছিল।
কৃষক রুবেল মিয়ার অভিযোগ, কলাগুলো বিক্রির উপযোগী হওয়ার আগেই কোনো এক রাতে দুর্বৃত্তরা তার জমিতে প্রবেশ করে কলাগাছে কীটনাশক স্প্রে করে দেয়। পরদিন বাগানে গিয়ে তিনি কলাগাছ ও ফলের অস্বাভাবিক অবস্থা দেখতে পান। পরে তিনি বুঝতে পারেন, তার ফসলের ওপর পরিকল্পিতভাবে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে প্রায় ৭০ পিস কলা নষ্ট হয়ে যায়।
হঠাৎ করে এক বছরের পরিশ্রমের ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক রুবেল মিয়া। তিনি জানান, কলাগুলো বিক্রি করে পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর পাশাপাশি কৃষিকাজে বিনিয়োগ করা অর্থও তুলে নেওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেই আশা এখন অনেকটাই ভেঙে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রুবেল মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি একজন কৃষক। অনেক কষ্ট করে এক বছর ধরে এই কলার বাগান করেছি। সার, পানি, শ্রম ও টাকা খরচ করে কলাগুলো বড় করেছি। বিক্রির সময় হওয়ার আগেই কে বা কারা আমার কষ্টের ফসল নষ্ট করে দিয়েছে। আমি খুব অসহায় হয়ে পড়েছি। যারা আমার কষ্টের ফসল নষ্ট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম।”
তিনি আরও বলেন, কৃষকের ফসল নষ্ট করা শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, এর সঙ্গে একজন কৃষকের দীর্ঘদিনের শ্রম, স্বপ্ন ও পরিবারের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে থাকে। তাই এ ধরনের ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কৃষক রুবেল মিয়াও তার ক্ষতির সঠিক তদন্ত ও প্রতিকার দাবি করেছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো কৃষকের পরিশ্রমের ফসল এভাবে নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
