
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে করা একটি মামলায় আসামি হওয়া চার ব্যক্তি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে মামলাটির পুনঃতদন্ত ও মামলা থেকে তাদের অব্যাহতির ব্যবস্থা করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করেছেন। তাদের দাবি, মামলায় যে ঘটনার কথা বলা হয়েছে, তার সঙ্গে তারা কোনোভাবেই জড়িত নন। একই এলাকায় বসবাসের কারণে মামলার এক নং আসামির সঙ্গে তাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে—এমন তথ্য দেখিয়ে তাদের মামলায় জড়ানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া লিখিত আবেদনে এ দাবি করেন উপজেলার পোড়াগাঁও এলাকার বাসিন্দা মো. মহির উদ্দিন ওরফে হৃদয়, মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক ওরফে রতন মিয়া, আব্দুল হামিদ ওরফে অমিল মিয়া এবং মো. তুফাজ্জল মিয়া ওরফে তুফা মিয়া।
আবেদনকারীদের ভাষ্য, তারা দিনমজুর এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল। বাড়িভিটা ছাড়া তাদের কোনো জমিজমা নেই। দিনমজুরি করে তারা সংসার চালান। তাদের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মো. ছামিদুল হক তার চাচাতো ভাই মো. ছোরহাব আলীকে এক নম্বর আসামি করে তাদেরসহ অন্যদের বিরুদ্ধে শেরপুরের সি.আর. আমলি আদালত (দ্রুত বিচার) ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ২৮/২০২৬।
আবেদনে চারজন দাবি করেন, ছোরহাব আলী তাদের এলাকায় বসবাস করেন। এই কারণে তাদের তার আত্মীয় হিসেবে দেখিয়ে মামলায় আসামি করা হয়েছে। তবে ছামিদুল হকের সঙ্গে তাদের কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন তারা। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার সঙ্গেও তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তাদের আরও অভিযোগ, মামলায় যাদের সাক্ষী করা হয়েছে, তারা বাদীপক্ষের আত্মীয়স্বজন। নালিতাবাড়ী থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলাটি তদন্ত করে যে প্রতিবেদন দিয়েছেন, সেটিও সঠিক হয়নি বলে দাবি করেন তারা। তাদের ভাষ্য, ঘটনার সময় তারা দিনমজুরির কাজে ছিলেন। ওই সময় মামলার বাদীর সঙ্গে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।
মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক ওরফে রতন মিয়া বলেন, তাকে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছাড়াই মামলায় আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশা করেন।
মো. তুফাজ্জল মিয়া ওরফে তুফা মিয়া বলেন, দিনমজুরি করে তিনি সংসার চালান। ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মহির উদ্দিন ওরফে হৃদয়ের স্ত্রী মোছা. সিমু আক্তার বলেন, তারা অত্যন্ত দরিদ্র। তার হাত ভেঙে যাওয়ায় চিকিৎসার খরচ চলছে। অন্যদিকে তার স্বামীকে মামলার খরচের পাশাপাশি চিকিৎসা ও সংসারের ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমার স্বামী কি মামলা চালাবে, নাকি আমার হাত ভাঙার খরচ করবে, নাকি সংসারের খরচ চালাবে—আমরা বুঝতে পারছি না।” ঘটনার বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না দাবি করে তিনি আইনের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার চান।
আব্দুল হামিদ ওরফে অমিল মিয়ার স্ত্রী মোছা. রেহানা খাতুন বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার স্বামীর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এরপরও তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানান তিনি।
আবেদনে চারজন মামলাটি পুনরায় তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং তাদের মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা করার জন্য ইউএনওর কাছে অনুরোধ করেন।
এ বিষয়ে মামলার বাদী মো. ছামিদুল হকের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
