
ছবি: সংগৃহীত
মিহাদুল ইসলাম
প্রতিনিধি || বদলগাছি নওগাঁ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর প্রকাশ্যে গুলি চালানো, খুন ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলার আসামি ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতা এস এম তৌহিদ আল হোসেন ওরফে তুহিন ওরফে ‘শ্যুটার তুহিন’-কে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
আজ বুধবার ভোরে রাজধানীর আদাবর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি গুলশান বিভাগ। পুলিশ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অন্তত ১৫ জন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আলোচিত এই শ্যুটার তুহিন অন্যতম।
২০১২ সালের ২ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর তৌহিদ আল হোসেনকে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি চালাতে দেখা যায়। তার গুলিবর্ষণের ছবিও সে সময় বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যা দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।
২০১২ সালের ১৫ জুলাই রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র এবং ছাত্রলীগ কর্মী আবদুল্লাহ আল হাসান (সোহেল)। এ ঘটনায় ১৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নোমান বাদী হয়ে যে হত্যা মামলা দায়ের করেন, তাতে তুহিনকে প্রধান আসামি করা হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তুহিনের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০১১ সালের ২১ আগস্ট নগরের পদ্মা আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে সংঘটিত ডাকাতির মামলায় তাকে অভিযুক্ত করে পুলিশ অভিযোগপত্র জমা দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তুহিন দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অস্ত্রধারী ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার, হুমকি, চাঁদাবাজি, সংঘর্ষ উসকে দেওয়া, এমনকি ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে।