মো: গোলাম রব্বানী তালুকদার, শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় মা ও ছেলেকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তিন যুবককে জয়পুরহাট ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে লুট হওয়া মোটরসাইকেলটিও।
পুলিশ জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টার মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলার সাদুল্লাপুর বটতলা রাণী বেগম (৪০) ও তাঁর ছেলে ইমরান হোসেন (২২)-কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, আসামি জিসান (২০) তার দুই সহযোগী মাহী ইসলাম (১৯) ও সৈকত (২০)-কে সঙ্গে নিয়ে ইমরানের Hero Thriller 160R 4V মোটরসাইকেল চুরির পরিকল্পনা করে। ঋণের টাকা শোধ ও নেশার টাকার জন্যই তারা এই পরিকল্পনা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দিলে তিনজন মিলে প্রথমে ইমরানকে এবং পরে ধারালো দা দিয়ে রাণী বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনাস্থলেই মা ও ছেলের মৃত্যু হয়। এরপর ঘর থেকে গহনা ও মোটরসাইকেল লুট করে পালিয়ে যায় তারা।
ঘটনার পরপরই পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম-এর নির্দেশে এবং সহকারী পুলিশ সুপার (শিবগঞ্জ-সোনাতলা সার্কেল) রবিউল ইসলাম-এর তত্ত্বাবধানে এসআই উৎপল কুমার বোস-এর নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম গঠন করা হয়।
এরপর গত ১৫ অক্টোবর রাতে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার পূর্ব নরসিংহপুর এলাকা থেকে প্রথম আসামি মাহী ইসলাম-কে গ্রেফতার করা হয়।
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত স্বীকার করে এবং তার দেওয়া তথ্যে নওগাঁ সদর এলাকা থেকে লুট হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে ধারাবাহিক অভিযানে এজাহারভুক্ত আসামি জিসান ও সহযোগী সৈকত-কে শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে ঢাকার খিলক্ষেত থানার ডুমনি বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, তিনজনই দীর্ঘদিন ধরে নেশায় আসক্ত এবং বিভিন্নজনের কাছে ঋণগ্রস্ত ছিল। ঋণের টাকা পরিশোধের জন্যই তারা পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার হোসেন।