মো: গোলাম রব্বানী তালুকদার শিবগঞ্জ বগুড়া প্রতিনিধি:বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা–জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের গণেশপুর (বড়িতলা) এলাকায় অবস্থিত পুলিশ বক্সটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে এটি পথচারীদের টয়লেট ও বাথরুম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত এ পুলিশ বক্সটি সচল ছিল এবং প্রতিরাতে সেখানে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করে তল্লাশি চালাতেন।
পুলিশ বক্সটি অকেজো হয়ে পড়ার পর থেকে ওই এলাকায় একাধিক ডাকাতি ও ডাকাতির চেষ্টা সংঘটিত হয়েছে। প্রায় দুই দশক আগে মহাসড়কে যানবাহন ও পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ বক্সটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর উশৃঙ্খল জনতা পুলিশ বক্সটির দরজা, গ্রীল ও সোলার প্যানেল ভেঙে ফেলে। এরপর থেকে পুলিশ উপস্থিতি না থাকায় মহাসড়কটি রাতের বেলায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফসলের মাঠ ও জনমানবহীন পরিবেশের কারণে সন্ধ্যার পর থেকে যানবাহন ও পথচারীরা এখন এই সড়কে চলাচলে ভয় পাচ্ছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছয় মাস আগে এক ওষুধ কোম্পানির কর্মচারীকে রাতে পুলিশ বক্সের সামনে ডাকাতরা মোটরসাইকেলসহ আটকে তার হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখে যায়। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়া হয়। গত ১৫ দিন আগে আবারও ওই সড়কে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ গত সপ্তাহে দুর্বৃত্তরা রাস্তায় গাছ ফেলে শাহ ফতেহ আলী পরিবহনে ডাকাতির চেষ্টা চালায়।
উথলী পূর্বপাড়ার কৃষক ইউনুস আলী বলেন,
“আমরা ঐ পুলিশ বক্সের আশেপাশে জমি চাষ করি। কিন্তু সন্ধ্যার পর ভয়ে জমিতে যেতে পারি না। ডাকাতরা মাঝে মাঝে ফসলও নষ্ট করে দেয়। যদি সেখানে আবার পুলিশ নিয়মিত ডিউটি শুরু করে, তাহলে আমরা নিরাপদে কাজ করতে পারব।”
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান বলেন,
“পুলিশ বক্সটি অকেজো থাকায় টহল কার্যক্রমে কিছুটা বিঘ্ন হচ্ছে। তারপরও পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং কয়েকজন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বক্সটি সংস্কার করা গেলে সেখানে নিয়মিত প্যাট্রল ডিউটি চালু করা সম্ভব হবে।”