Oplus_131072
তাওহিদুজ্জামান (রোমান)
সহ-সম্পাদক | জনগণের কন্ঠ
হালুয়াঘাটের বাঘাইতলা আমির খাঁ কুড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন গার্মেন্টকর্মী রতন মিয়া (৩২)। গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে তার সাত বছর বয়সী কন্যাশিশু নুরিয়াকেও। গলা কাটা গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন স্ত্রী জুলেখা খাতুন (২৭)।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে। নিহত রতন মিয়া ও নুরিয়া শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বাঘবেড় খড়িয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, বুধবার ভোর চারটার দিকে স্থানীয় একটি ফোন কলের ভিত্তিতে বাঘাইতলা আমির খাঁ কুড়া গ্রামের দুলাল মিয়ার বাড়িতে গেলে ঘরের ভিতরে গার্মেন্টকর্মী রতন মিয়া ও তার কন্যাশিশু নুরিয়ার গলা কাটা মরদেহ পাওয়া যায়। এ সময় পাশে গলাকাটা আহত অবস্থায় পাওয়া যায় রতন মিয়ার স্ত্রী জুলেখা খাতুনকে। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, প্রায় নয় বছর আগে নালিতাবাড়ীর বাঘবেড় খড়িয়াপাড়া গ্রামের গার্মেন্টকর্মী রতন মিয়া ও জুলেখার বিয়ে হয়। প্রায় দুই বছর আগে জুলেখা শ্রমিক ভিসায় দুবাই যান। দ্বিতীয়বারের মতো দুই মাস আগে তিনি ছুটিতে দেশে আসেন। বুধবার পুনরায় দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। তবে স্বামী ও স্বামীর পরিবারের লোকজন বিদেশ যাওয়া বিষয়ে আপত্তি জানায়, ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। স্ত্রীর চলে যাওয়ার সময় হওয়ায় একদিন আগে রতন মিয়া গার্মেন্ট থেকে ছুটি নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রীর কাছে আসেন।
হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, ভোর চারটার দিকে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে রতন মিয়া ও তার কন্যাশিশু নুরিয়ার গলা কাটা মরদেহ পাওয়া যায়। পরে ওই মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শ্বশুর দুলাল মিয়া ও শাশুড়ি রাজিয়াকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কোনো মোটিভ জানা যায়নি।