Oplus_131072
তাওহিদুজ্জামান (রোমান)
সহ-সম্পাদক | জনগণের কন্ঠ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্র—থটস্-অফ-বিল্লাল। নকলার চন্দ্রকোনা গ্রামে জন্ম নেওয়া এই তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর দ্রুত সময়ের মধ্যেই ফেসবুকে গড়ে তুলেছিলেন তিন মিলিয়ন অনুসারীর বিশাল প্ল্যাটফর্ম। স্বল্পসময়ে জনপ্রিয় হলেও হঠাৎ করে তার ফেসবুক আইডি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়ে নানামুখী সমালোচনা ও বিতর্ক।
তবে থটস্-অফ-বিল্লাল কখনোই এই সমালোচনাকে নিজের পথে বাধা হতে দেননি। বরং আরও বেশি দৃঢ় হয়েছেন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে। তার মানবিক কাজের ধারাবাহিকতা এখন দেশের বিভিন্ন এলাকায় আলোচিত।
নালিতাবাড়ীর একজন চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রকিব মুক্তাদির বলেন—“বিল্লালকে নিয়ে অনেকে ভিত্তিহীন সমালোচনায় মেতে উঠেছে। কিন্তু একজন মানুষ কী—তা তার কথায় নয়, কাজে বোঝা যায়। থটস্-অফ-বিল্লাল সেই কাজ দিয়ে বারবার প্রমাণ করেছেন যে তিনি অন্যদের মতো শুধু কনটেন্ট তৈরি করেন না—মানুষের কষ্টও অনুভব করেন। সাধারণ পরিবারের ছেলে হয়েও তিনি অসাধারণ হৃদয়ের পরিচয় দিয়েছেন। তার সাহস, মানবিকতা ও স্থিরতা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে।”
তিনি আরও বলেন—“আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় যাকে-তাকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। কিন্তু প্রতিকূলতার মধ্যেও এই তরুণ যে ভাবে দিনাজপুরের এক শিশুর চোখের আলো ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছে—এটা সত্যিই অনুকরণীয়। মানুষের জন্য এমন আন্তরিকতা খুব কম দেখা যায়।”
দিনাজপুরের ক্ষুদে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সাইমনের চোখ বাঁচাতে ছুটে চলা
দিনাজপুরের ক্ষুদে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সাইমন, যাকে অনেকেই চেনে তার সরল হাসি আর সৃজনশীল ভিডিওর জন্য। কিন্তু কিছুদিন আগে জানা যায়—
- সাইমনের একটি চোখ ৯০% নষ্ট,
- আরেকটি চোখ ৭৫% ক্ষতিগ্রস্ত।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন—দ্রুত চিকিৎসা শুরু না হলে শিশুটি সম্পূর্ণ দৃষ্টি হারাতে পারে।
এই খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে থটস্-অফ-বিল্লাল নিজেই উদ্যোগ নিয়ে শুরু করেন ১০ লাখ টাকা সংগ্রহের ক্যাম্পেইন। মানুষের সাড়া এতটাই অভাবনীয় ছিল যে মাত্র দুই দিনে ৫ লাখ টাকার বেশি সংগ্রহ হয়ে যায়। তার আহ্বানে প্রতিদিনই যোগ হচ্ছে নতুন মানুষ, বাড়ছে সহায়তার হাত।
বিল্লাল জনগণের কণ্ঠ’কে বলেন—“সমালোচনা নয়, মানুষের দোয়াই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। মানুষের কষ্ট দেখলে আমি চুপ থাকতে পারি না। সমালোচনা তো থাকবেই, কিন্তু একটি শিশুর চোখ বাঁচাতে পারা—এটাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ।”
সমালোচনা, ভুল বোঝাবুঝি কিংবা অভিযোগ—কিছুতেই থামছেন না থটস্-অফ-বিল্লাল। বরং তার প্রতিটি উদ্যোগ প্রমাণ করছে—মানবিকতা কখনো থেমে থাকে না; এবং যে তরুণ মানুষের জন্য কাজ করে, তাকে সমাজ একদিন সম্মানের আসনেই বসায়।