শেরপুরের সংগ্রামী নেতা রিপন: সুস্থতার বার্তা ও শেরপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়নে আত্মবিশ্বাস

তাওহিদুজ্জামান (রোমান)
শেরপুর জেলা প্রতিনিধি | জনগণের কন্ঠ
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী বিএনপি নেতা এ কে এম মুখলেছুর রহমান রিপন আবারও রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দলীয় অবদানের ভিত্তিতে তিনি বিশ্বাস করছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন তিনি পাবেন।
দলের নিবেদিতপ্রাণ এই নেতা শেরপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন। তবে তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার প্রমাণস্বরূপ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলে কিছু প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দেয়। এই কারণে জেলা প্রশাসক (ডিসি) অফিস থেকে তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
দীর্ঘ সময় অসুস্থ থাকলেও বর্তমানে অনেকটাই সুস্থ রিপন। তিনি জানান, শারীরিক অবস্থার উন্নতির পর থেকেই তিনি এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করেছেন।
এ কে এম মুখলেছুর রহমান রিপন জনগনের কন্ঠ কে বলেন, “আমি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলাম, আল্লাহর অশেষ রহমতে এখন অনেকটাই সুস্থ। রাজনীতিতে আমি নতুন কেউ নই—ছাত্রজীবন থেকেই রাজপথে সক্রিয় ছিলাম, আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছি, সবসময় মানুষের পাশে থেকেছি। তাই নিজেকে নতুন করে পরিচিত করার প্রয়োজন নেই; তবে মানুষের দোয়া ও ভালোবাসা নিয়ে আবারও মাঠে নেমেছি।”
রিপন আরও বলেন, “৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আমি নিজেকে শেরপুর-২ আসনে জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করি। আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের সেই কঠিন সময়ে, যখন বহু নেতা-কর্মী আত্মগোপনে চলে যান, আমি তখন নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলাম। দেশের সংকটময় মুহূর্তে দল ও আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে বাণী পাঠের সময় আমি বেগম মতিয়া চৌধুরীর নির্বাচনী এলাকায় দাঁড়িয়ে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করি— ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক।’ এই বক্তব্য দেওয়ার পরপরই আমার বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয় এবং অফিস কক্ষে তালা লাগিয়ে আমাকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়। এটি শুধুমাত্র একটি বক্তব্য ছিল না— এটি ছিল আমার রাজনৈতিক বিশ্বাস, জাতীয়তাবাদী আদর্শ এবং দলীয় নেতৃত্বের প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা ও আত্মনিবেদনের প্রতীক।”
আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে রিপন বলেন, “আমার জ্যাঠা, মরহুম এডভোকেট হাবিবুর রহমান ছিলেন শেরপুর জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি নিজের নামে থাকা সম্পত্তি শেরপুর জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের জন্য দান করেছেন— যা আমাদের পরিবারের রাজনীতির প্রতি নিষ্ঠা ও ত্যাগের প্রমাণ। আমি সবসময় দলের আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে কাজ করেছি। বিশ্বাস করি, আমার রাজনৈতিক ত্যাগ, অবদান এবং দলের প্রতি গভীর নিষ্ঠা দল অবশ্যই মূল্যায়ন করবে। ইনশাআল্লাহ, এবার আমি শেরপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাব।”
সবশেষে তিনি এলাকাবাসীসহ দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “আমার পূর্ণ সুস্থতার জন্য সবাই দোয়া করবেন, যাতে আগের মতো সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে ফিরে এসে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি।”
What's Your Reaction?






