তাওহিদুজ্জামান (রোমান)
নিজস্ব প্রতিবেদক | জনগণের কন্ঠ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে শেরপুর-জামালপুর অঞ্চলে আলোচনায় রয়েছেন শেরপুর জেলা মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমাইয়া আলম। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও রাজপথের আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তাকে নিয়ে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব
সুমাইয়া আলম একটি রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তাঁর বাবা শফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি জাসাস, যুবদল, কৃষকদলসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। পারিবারিক রাজনৈতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা সুমাইয়াও দীর্ঘ সময় ধরে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন।
আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সুমাইয়া আলম মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বলেন, “দলের দুর্দিনে রাজপথে ছিলাম। হামলা-মামলার মুখোমুখি হয়েছি, তবু আদর্শ থেকে সরে যাইনি। দল যদি আমাকে মূল্যায়ন করে, তবে সেই আস্থা রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা
শেরপুর ও জামালপুর অঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনে তাকে দেখতে আগ্রহী অনেকেই।
স্থানীয় ছাত্রনেতা শাকিল আহমেদ বলেন, “দলের কঠিন সময়ে তিনি সক্রিয় ছিলেন। তার মতো ত্যাগী নেত্রী সংসদে গেলে এলাকার মানুষের কথা বলবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
শেরপুর শহরের অটোরিকশা চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, “তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। আমাদের এলাকার সমস্যাগুলো বোঝেন। সুযোগ পেলে ভালো করবেন বলে আশা করি।”
তবে জেলা বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন পুরোপুরি দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
নারী উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার
সুমাইয়া আলম বলেন, নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে তিনি নারী উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবেন। তার ভাষ্য, “সীমান্তবর্তী ও পাহাড়ি এই অঞ্চলের নারীরা এখনো পিছিয়ে আছেন। আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নারীস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করতে চাই। আমি এই এলাকার সন্তান—এখানকার মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনা দুটিই আমার জানা।”
শেরপুর-জামালপুর অঞ্চলে সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তাতে সুমাইয়া আলমের নাম উল্লেখযোগ্যভাবে সামনে এসেছে। চূড়ান্ত দলীয় সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের।