তাওহিদুজ্জামান (রোমান)
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনগণের কন্ঠ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা এবার শেরপুর-জামালপুর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে আলোচনায় উঠে এসেছেন। নির্বাচনে পরাজিত হলেও দলীয় সমর্থক ও ভোটারদের একটি বৃহৎ অংশ মনে করছেন, তার রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও জনসম্পৃক্ততার বিবেচনায় সংরক্ষিত আসনে তাকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে শেরপুর-১ আসনে প্রার্থী হন। নির্বাচনী প্রচারণাকালে তরুণ ভোটার, নারীসমাজ ও পেশাজীবীদের মধ্যে তার ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি একটি শক্ত সমর্থকগোষ্ঠী গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।
ভোটারদের প্রত্যাশা
শেরপুর শহরের ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান বলেন, “ডা. প্রিয়াঙ্কা শিক্ষিত ও ভদ্র রাজনীতির চর্চা করেন। নির্বাচনে তিনি ভালো প্রচারণা চালিয়েছেন। সংরক্ষিত নারী আসনে তাকে মনোনয়ন দিলে এলাকায় ইতিবাচক বার্তা যাবে।”
আরেক ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, “তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি। নির্বাচনে অংশ নিয়ে যে সাহস ও সাংগঠনিক সক্ষমতা দেখিয়েছেন, সেটির মূল্যায়ন হওয়া উচিত।”
স্থানীয় এক নারী ভোটার বলেন, “তিনি নারী ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে সচেতন। সংরক্ষিত আসনে গেলে নারীদের সমস্যাগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারবেন।”
রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও অবস্থান
ডা. প্রিয়াঙ্কা এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন এবং তরুণ নারী প্রার্থী হিসেবে সে সময়ও আলোচনায় ছিলেন। চিকিৎসক হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক সক্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় নেওয়া হয়। সে প্রেক্ষাপটে ডা. প্রিয়াঙ্কার নাম আলোচনায় রয়েছে বলে জানা যায়। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ডা. প্রিয়াঙ্কা জানিয়েছেন, সুযোগ পেলে নারীস্বাস্থ্য সুরক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিক্ষা উন্নয়নে কাজ করতে চান। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী শেরপুর অঞ্চলের নারীদের স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতা বৃদ্ধিকে তিনি অগ্রাধিকার দিতে চান।
শেরপুরে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে আলোচনা চলছে, সেখানে ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কার নাম জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, দলীয় সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে জোটে সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ।