
করোনাকালীন সেই দুঃসহ সময়ে অনেকটা বাধ্য হয়েই আমাদের শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসের ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল। তবে সেই সাময়িক ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব আজ আমাদের সামনে স্পষ্ট। প্রযুক্তির প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি শিক্ষার্থীদের যে অপূরণীয় ক্ষতি করেছে, তার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও যদি আমরা সেই একই পথে হাঁটি, তবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তা হবে বড় একটি ঝুঁকি।
★শিক্ষার্থীদের ওপর এর প্রভাব★
১) সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও মানবিক বিকাশে বাধা: শিক্ষা কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়; সহপাঠীদের সাথে মেলামেশা, খেলাধুলা এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব গঠিত হয়।
ডিভাইসের স্ক্রিনে বন্দি শিক্ষা শিক্ষার্থীদের অসামাজিক ও আত্মকেন্দ্রিক করে তুলছে।
২) মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকি: দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা কম্পিউটারের সামনে বসে থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চোখের সমস্যা, অনিদ্রা এবং শারীরিক স্থূলতা বাড়ছে। পাশাপাশি ইন্টারনেটের অবাধ দুনিয়ায় বিষণ্ণতা ও মনোযোগহীনতা তাদের সৃজনশীলতাকে ধ্বংস করছে।
৩) শিক্ষার প্রকৃত নির্যাস থেকে বিচ্যুতি: সরাসরি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে যে আত্মিক বন্ধন তৈরি হয়, তা কোনো ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে সম্ভব নয়। অনলাইন শিক্ষায় অনেক সময় পড়াশোনা কেবল ‘তথ্য আদান-প্রদান’ হয়ে দাঁড়ায়, যা প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের পথে বাধা।
৪) যান্ত্রিকতা বনাম মূল্যবোধ: বইয়ের পাতা উল্টে পড়ার যে আনন্দ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শেখার যে গুরুত্ব, যান্ত্রিক শিক্ষা তার বিকল্প হতে পারে না। অতিরিক্ত ডিভাইস নির্ভরতা শিক্ষার্থীদের চিন্তা করার ক্ষমতা কমিয়ে তাদের যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল করে তুলছে।
উপসংহার: প্রযুক্তির অগ্রগতিকে আমরা অস্বীকার করতে পারি না, তবে তা যেন আমাদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে গ্রাস না করে। শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে তাদের খেলার মাঠ, লাইব্রেরি এবং সরাসরি শ্রেণিকক্ষের প্রাণবন্ত পরিবেশের বিকল্প আর কিছু হতে পারে না। ডিভাইস হোক কেবল একটি মাধ্যম, কিন্তু তা যেন কখনোই শিক্ষার মূল ভিত্তি হয়ে না দাঁড়ায়।
৩১/০৩/২০২৬
