
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চলমান খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান।
সোমবার (২২ জুন) উপজেলার কিচক ছাতিয়ানপাড়া ও বড়াইল বাকসন গ্রামের চলমান খাল খনন কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় খনন কাজের অগ্রগতি, গুণগত মান, নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী বাস্তবায়ন এবং প্রকল্পের সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে ইউএনও জিয়াউর রহমান বলেন, খাল খনন শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি এলাকার কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে অনেক খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়া, কৃষিজমিতে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা এবং স্থানীয় জনগণের ভোগান্তি বাড়ছিল। খালগুলো পুনঃখননের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান হবে এবং কৃষকরা উপকৃত হবেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল যাতে সাধারণ মানুষ পায়, সে লক্ষ্যে প্রতিটি প্রকল্পের কাজ নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ বরদাশত করা হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনকালে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জহিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন এবং চলমান খনন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনে চরম সমস্যা দেখা দিয়েছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে কৃষিজমি ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতো। খাল খনন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে এলাকার পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করতে এবং কৃষি খাতে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টির লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে খাল পুনঃখনন ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, এসব প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হলে এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, জলাবদ্ধতা হ্রাস এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
