
শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন, দেশ-বিদেশে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন এবং এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন লেফটেন্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মোঃ নজরুল ইসলাম। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এ কর্মকর্তা নির্বাচিত হলে পোড়াগাঁও ইউনিয়নকে একটি উন্নত ও মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
লেফটেন্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মোঃ নজরুল ইসলাম ১৯৬৮ সালে নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের ধোপাকুড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৃত হাজী বাবর আলী কমান্ডার এবং মাতা মরহুমা আহিমন নেসা। তিনি ১৯৮৩ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাস করেন।
পরবর্তীতে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ফার্স্ট ক্লাস ফলাফল অর্জন করেছেন বলে জানান। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের এডওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং সেখানেও ফার্স্ট ক্লাস ফলাফল করেন বলে জানান তিনি। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ফার্স্ট পার্ট এমএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংও সম্পন্ন করেছেন বলে জানান।
১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে যোগ দেন মোঃ নজরুল ইসলাম। পরবর্তীতে লেফটেন্যান্ট পদে উন্নীত হন। পরে স্বাস্থ্যগত কারণে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন বলে জানান তিনি। তার দাবি, পোড়াগাঁও ইউনিয়ন তথা নালিতাবাড়ী উপজেলায় তিনিই প্রথম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমিশন্ড অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
নৌবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। এরপর তিনি সৌদি আরবের লোহিত সাগর এলাকায় জেদ্দা ইসলামিক সিপোর্টে র্যাডার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন বলে জানান। পরবর্তীতে কাতার ও ইরাকেও দীর্ঘদিন চাকরি করার সুযোগ হয়েছে বলে জানান তিনি।
বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রজেক্ট ডিজাইন অ্যান্ড কনসালট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বলে জানান মোঃ নজরুল ইসলাম। পাশাপাশি রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে প্রকল্পেও কনসালট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান তিনি।
পারিবারিক পরিচয়
১৯৯১ সালে নন্নী পূর্বপাড়ার ইরফান আলী মাস্টারের একমাত্র কন্যা ইসরাত জাহান বিএ-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মোঃ নজরুল ইসলাম। তাদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে।
তার বড় মেয়ে নীলিমা জাহান মৌরী গাইনি চিকিৎসক হিসেবে নোয়াখালীর চাটখিলের মেডিনোভা হাসপাতালে কর্মরত। তিনি আরএমও ও আল্ট্রাসনোলজিস্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান তিনি। বড় মেয়ের স্বামী মোঃ সাফায়েত জামিল চুয়েট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং বিসিএস (পিডব্লিউডি) ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত বলে জানান।
দ্বিতীয় মেয়ে নাসরিন জাহান জ্যোতি ডেন্টাল চিকিৎসক। তিনি ঢাকার মিরপুরে নিজস্ব চেম্বারে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন বলে জানান মোঃ নজরুল ইসলাম। তার স্বামী মোঃ মাহফুজুর রহমান চুয়েট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত বলে জানান তিনি।
একমাত্র ছেলে ইশরাক জাহান রাতুল যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটিতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড মেশিন লার্নিং বিষয়ে পিএইচডি অধ্যয়নরত বলে জানান মোঃ নজরুল ইসলাম।
তার দাবি, ইশরাক জাহান রাতুল নালিতাবাড়ী উপজেলায় ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে প্রথম ডক্টরেট এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড মেশিন লার্নিং বিষয়ে শেরপুর জেলায় প্রথম ডক্টরেট হওয়ার পর্যায়ে রয়েছেন। এছাড়া তার দুই মেয়েই পোড়াগাঁও ইউনিয়নের প্রথম নারী চিকিৎসক বলে দাবি করেন তিনি।
অবদানসমূহ
লেফটেন্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মোঃ নজরুল ইসলাম ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের উল্লেখযোগ্য অবদান হিসেবে বলা হয়েছে—
“পোড়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিষ্ঠা, পোড়াগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, পোড়াগাঁও জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠা, পোড়াগাঁও ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা, পোড়াগাঁও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা, পোড়াগাঁও বাজার প্রতিষ্ঠা, ধোপাকুড়া মসজিদ প্রতিষ্ঠা এবং ধোপাকুড়া বাজার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে লেফটেন্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মোঃ নজরুল ইসলাম ও তার পরিবারের অবদান রয়েছে।”
এগুলোকে তিনি ও তার পরিবার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের মানুষের জন্য দীর্ঘদিনের সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আগেও নির্বাচনে অংশগ্রহণ, করোনাকালে ত্রাণ নিয়ে মানুষের পাশে
পোড়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে এর আগেও নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান লেফটেন্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মোঃ নজরুল ইসলাম। এবারও তিনি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, করোনাকালীন সময়ে তিনি এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে ত্রাণ নিয়ে দাঁড়িয়েছেন। এ সময় বিভিন্ন ব্যক্তি ও পরিবারকে দান-অনুদান ও সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন গ্রামীণ রাস্তার দুরবস্থা দেখে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সহযোগিতায় কাদাযুক্ত ও চলাচলের অনুপযোগী রাস্তায় মাটি ফেলে সংস্কারের কাজও করেছেন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, মানুষের প্রয়োজন ও দুর্ভোগ বিবেচনা করেই এসব সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি যুক্ত হয়েছেন।
নির্বাচিত হলে পোড়াগাঁওকে মডেল ইউনিয়ন করার পরিকল্পনা
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে পোড়াগাঁও ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন লেফটেন্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মোঃ নজরুল ইসলাম। তার লক্ষ্য, পোড়াগাঁও ইউনিয়নকে একটি উন্নত ও মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলা।
তিনি জানান, ইউনিয়নের কাঁচা, কাদাযুক্ত ও চলাচলের অনুপযোগী গ্রামীণ রাস্তাগুলো পর্যায়ক্রমে সংস্কার ও উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এলাকার বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও তার পরিকল্পনায় রয়েছে। তিনি বলেন, স্থানীয় তরুণদের দক্ষতা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এছাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কার্যক্রম শুরু করার বিষয়টিকেও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন। নির্বাচিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এতে ভূমি-সংক্রান্ত সেবা পেতে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে বলে মনে করেন তিনি।
অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নের প্রত্যয়
লেফটেন্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন নৌবাহিনীতে দায়িত্ব পালন এবং দেশে-বিদেশে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করার সুবাদে তিনি বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা এবার নিজ এলাকার উন্নয়নে কাজে লাগাতে চান।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত হলে দল-মত নির্বিশেষে পোড়াগাঁও ইউনিয়নের মানুষের জন্য কাজ করবেন। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, ভূমি-সংক্রান্ত সেবা সহজীকরণসহ নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং উপজাতি ও সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য কাজ করবেন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, অতীতে যেভাবে মানুষের পাশে ছিলেন, ভবিষ্যতেও মানুষের সহযোগিতা নিয়ে সেভাবেই কাজ করতে চান। নির্বাচনে ইউনিয়নবাসীর সহযোগিতা ও ভোট প্রার্থনা করে তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন পেলে পোড়াগাঁও ইউনিয়নকে একটি উন্নত, সুন্দর ও মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন।
