
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ২নং নন্নী ইউনিয়নের কাচিমৌ গ্রামের বাসিন্দা হাজী মো. মোজাম্মেল হক। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবন শেষে এবার জনপ্রতিনিধি হিসেবে ইউনিয়নবাসীর সেবা করতে চান তিনি। সততা, শৃঙ্খলা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থানকে নিজের মূলনীতি উল্লেখ করে ইউনিয়নবাসীর পরামর্শ, দোয়া ও সহযোগিতা নিয়ে একটি সুন্দর ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে অবদান রাখতে চান এই সাবেক শিক্ষক।
হাজী মো. মোজাম্মেল হক ১৯৬৪ সালের ১ মার্চ শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার ২ নং নন্নী ইউনিয়নের কাচিমৌ গ্রামের এক ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার দাদা মরহুম কাজিমুদ্দিন সরকার এবং বাবা মরহুম হাজী কেরামত আলী। তাদের বাড়ি কাচিমৌ গ্রামে।
মোজাম্মেল হকের দেওয়া জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় তিনি নিশ্চিন্তপুর আলিম মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছিলেন। ষষ্ঠ শ্রেণি পাস করার পর ১৯৭২ সালে আন্ধারোপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন। তার পিতা-মাতার ইচ্ছা ছিল তাকে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করানোর। পরে তিনি আবার মাদ্রাসায় ভর্তি হন।
১৯৭৬ সালে তিনি দাখিল পাস করেন। এরপর আলিম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ১৯৭৭ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে আলিম পাস করেন। পরে রাজনগর রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে ১৯৭৯ সালে সুনামের সঙ্গে ফাজিল পাস করেন।
জীবনবৃত্তান্তে মোজাম্মেল হক উল্লেখ করেছেন, পড়াশোনার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহের ধারাবাহিকতায় অনার্স ও মাস্টার্স পড়ার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। তবে পিতা-মাতা আদরের সন্তান হওয়ায় তার বাইরে গিয়ে পড়াশোনা করার বিষয়ে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে তিনি পিতা-মাতার কথা বুঝতে পেরে তাদের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেন এবং বাবার সঙ্গে সংসারিক কাজে সহযোগিতা করেন।
১৯৮৪ সালের ২৭ মার্চ সরকারি নিয়মে ও দক্ষতার মাধ্যমে নিশ্চিন্তপুর আলিম মাদ্রাসায় ইবতেদায়ি বিভাগের প্রধান সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন মোজাম্মেল হক। এরপর দীর্ঘ সময় সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা করে আসেন।
জীবনবৃত্তান্তে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিশ্চিন্তপুর আলিম মাদ্রাসার তৎকালীন গভর্নিং বডির সভাপতি এ.ডি.সি. হানিফের সভাপতিত্বে গভর্নিং বডির একটি সভা চলাকালে মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ হাতেম আলীর বিরুদ্ধে মাদ্রাসার টাকা আত্মসাৎ ও সুষ্ঠু হিসাব না দেওয়ার বিষয়টি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর অধ্যক্ষ হাতেম আলীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয় বলে জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে সহকারী ইবতেদায়ি প্রধান শিক্ষক হাজী মোজাম্মেল হককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং তরুণ প্রজন্মকে সৎ ও যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার কাজে সময় ব্যয় করেছেন। ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর তিনি শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
হাজী মো. মোজাম্মেল হক বলেন, “আমার জীবনের দীর্ঘ সময় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং তরুণ প্রজন্মকে সৎ ও যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার কাজে ব্যয় করেছি। শিক্ষকতা জীবন থেকে অবসর নিলেও সমাজ ও মানুষের প্রতি আমার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি। জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে আমি হাজী মোজাম্মেল হক জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনাদের সেবা করতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তিনি বলেন, “একজন শিক্ষকের কাছে সততা, শৃঙ্খলা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াটাই মূলনীতি। আমি বিশ্বাস করি, জনপ্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও এই নীতিগুলোর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আপনাদের পরামর্শ ও দোয়া সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে অবদান রাখতে চাই।”
মোজাম্মেল হক আরও বলেন, “আমার কোনো সন্তান নেই। তাই এই ইউনিয়নের প্রত্যেকটি মানুষকে আপনজন মনে করে তাদের সেবা করতে চাই। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষের কাছে আমার আহ্বান—আমাকে একবার ভোট দিয়ে আপনাদের পাশে থেকে সেবা করার সুযোগ দেবেন।”
দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা ও মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে নন্নী ইউনিয়নের মানুষের পাশে থেকে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন হাজী মো. মোজাম্মেল হক।
