মো: গোলাম রব্বানী তালুকদার, বগুড়া:-বাংলার ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে প্রফুল্ল চাকী এক উজ্জ্বল ও গৌরবময় নাম। ১৮৮৮ সালের ১০ আগস্ট বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার গ্রামে জন্ম নেওয়া এই বিপ্লবী তরুণ অল্প বয়সেই জড়িয়ে পড়েন স্বদেশী আন্দোলনে। পরে অনুশীলন সমিতির কর্মী হয়ে তিনি ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯০৮ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি সহযোদ্ধা ক্ষুদিরাম বসুর সঙ্গে মুজাফফরপুরে ব্রিটিশ বিচারক কিংসফোর্ডকে হত্যার পরিকল্পনায় অংশ নেন। বিস্ফোরণে দুর্ভাগ্যবশত দু’জন নিরীহ নারী নিহত হলেও কিংসফোর্ড প্রাণে রক্ষা পান। পরিকল্পনা ভেস্তে গেলে ক্ষুদিরাম বন্দী হয়ে ফাঁসিতে শহীদ হন এবং প্রফুল্ল চাকী ধরা পড়ার আগেই আত্মহনন করে বীরের মতো মৃত্যুবরণ করেন।
কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো—এই মহান বিপ্লবীর জন্মভূমি শিবগঞ্জে আজও তার স্মৃতি রক্ষায় কোনো দৃশ্যমান সরকারি উদ্যোগ নেই। নেই কোনো স্মৃতিসৌধ, যাদুঘর, গবেষণা কেন্দ্র কিংবা সরকারি স্বীকৃতি। স্থানীয়দের দাবি, ইতিহাসে অমর হয়ে থাকা এই বীরের স্মৃতিকে ধরে রাখতে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
শিবগঞ্জের শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল মনে করেন, প্রফুল্ল চাকীর দেশপ্রেম, সাহস ও আত্মত্যাগ তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে পারে। তারা তার নামে একটি স্মৃতিসৌধ, পাঠাগার বা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের এই অগ্নিপুরুষের জন্মদিনে স্থানীয়রা একটাই আশা ব্যক্ত করছেন—প্রফুল্ল চাকীর আত্মত্যাগকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানাতে দ্রুত উদ্যোগ নেবে সরকার। তার স্মৃতি সংরক্ষণ এখন সময়ের অনিবার্য দাবি।