তাওহিদুজ্জামান রোমান
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনগণের কন্ঠ
শেরপুরের গারো পাহাড়ের গহিনে বন্য হাতির অভয়ারণ্য এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে একটি সিসি ব্লক কারখানা। অবৈধভাবে পাহাড়ি ঝিরির বালু, নুড়ি ও সিঙ্গেল পাথর ব্যবহার করে সেখানে তৈরি করা হচ্ছে সিসি ব্লক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম সমচূড়া গ্রামের সর্ব উত্তরে ভারতঘেঁষা অংশ কোনাবাড়ি বড়খোল এলাকায় এই কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। গারো পাহাড়ের গহিন এই অংশটি বন্য হাতির অবাধ বিচরণক্ষেত্র। ফলে গরু চরাতে আসা রাখাল ও লাকড়ি সংগ্রহে যাওয়া কাঠুরে ছাড়া অন্য কারও তেমন আনাগোনা নেই এখানে। এ কারণে স্থানটি বন্যপ্রাণী ও চোরাকারবারিদের অভয়ারণ্য বললেই চলে। চলতি রমজান মাসের শুরুর দিকে ওই এলাকায় অবস্থিত রঞ্জনা ঝরনা নামে একটি পাহাড়ি ঝিরি থেকে উত্তোলিত বালু, নুড়ি ও সিঙ্গেল পাথর দিয়ে সেখানে গড়ে তোলা হয় সিসি ব্লক তৈরির কারখানা।
সরেজমিনে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের স্থানীয় দুই ইউপি সদস্য গহিন পাহাড়ি এলাকায় ব্লক তৈরির এই কারখানা চালু করেছেন। অন্যদিকে বন বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কারখানা সংলগ্ন এলাকায় বন বিভাগের লোকজনের যাতায়াত কম থাকায় সেখানে পাহাড়ি ঝিরির বালু, নুড়ি ও সিঙ্গেল পাথর ব্যবহার করে সিসি ব্লক তৈরির বিষয়টি সম্পর্কে আগে অবগত ছিল না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বন বিভাগের মধুটিলা বিট কর্মকর্তা কাউসার আহম্মেদ জনগণের কন্ঠকে বলেন, কারখানাটি যে স্থানে স্থাপন করা হয়েছে সেখানে আমাদের লোকজনের খুব একটা যাতায়াত নেই। এ কারণে আগে বিষয়টি আমরা অবগত ছিলাম না। তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন আগে এসি ল্যান্ডের নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এ সময় সিসি ব্লক তৈরির সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সিসি ব্লক তৈরির সব ধরনের সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জনগণের কন্ঠকে বলেন, আগে থেকে উত্তোলন করে রাখা বালু ও পাথর দিয়ে নিজেদের জায়গায় তারা ব্লক তৈরি করছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। এটি আইনসিদ্ধ নাকি অবৈধ—সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে পাহাড়ি ঝিরির বালু, নুড়ি ও সিঙ্গেল পাথর ব্যবহার করে সিসি ব্লক তৈরির কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ও সিসি ব্লক প্রস্তুতকারী ওমর ফারুক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিজের পুকুরপাড়ে ব্লক বসিয়ে মেরামতের জন্য এসব সিসি ব্লক তৈরি করেছি। এখন বেআইনি হলে তো কিছুই করার নেই। যা হওয়ার হবে।
ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে নালিতাবাড়ী উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত দুটি নদীর বালুমহাল বন্ধ থাকায় স্থানীয়ভাবে বালু পরিবহন নিষিদ্ধ রয়েছে। এর ফলে পাহাড়ের গহিনে থাকা রঞ্জনা ঝরনার বালু, নুড়ি ও সিঙ্গেল পাথর বিক্রি ও পরিবহন করতে পারছে না উত্তোলনকারীরা। মূলত এ কারণেই গহিন পাহাড়ে সিসি ব্লক তৈরি করে অভিনব কৌশলে বালু ও পাথর বিক্রির উপায় খুঁজে বের করেছেন স্থানীয় দুই ইউপি সদস্য নবী হোসেন ও ওমর ফারুক। ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে ঝিরি থেকে তুলে রাখা বালু, নুড়ি ও সিঙ্গেল পাথর ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে এসব সিসি ব্লক। বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির জন্যই এসব ব্লক তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।