সৌভাগ্যের পরশমণি বিশ্বনবী মোহাম্মাদ স.
“”””””””””””””””””””””””””””””””””💙💛❤💚💜

মাওলানা রেজাউল করিম নওগাঁ
জেলা প্রতিনিধি,
কে আসে কে আসে নতুন সাড়া,
জাগে সুষুপ্ত মৃতজনপদ জাগে শতাব্দী ঘুমের পাড়া।
-কবি ফররুখ আহমদ
তিনি সিরাজাম মুনিরা -প্রজ্জ্বলিত আলোকবর্তিকা।
তিনি নবীয়ে রহমত, রাহমাতুল্লিল আলামিন।
তিনি বরকতের আধার। দুনিয়াবাসিকে সৌভাগ্য সীমানায় একত্রিত করার পথিকৃত, সৌভাগ্যের পরশমণি।
💢ঘোর আঁধারে তার আগমন
——————————————
ظهر الفساد في البر والبحر بما كسبت أيدي الناس
“স্থল আর জল মানুষের দুহাতের অর্জিত ফাসাদ দিয়ে পরিপূর্ণ হয়েছিল। -রূম, ৪১
বিবেকহীনতার শ্রেষ্ঠ মঞ্চ
———————————–
لهم قلوب لا يفقهون بها ولهم أعين لا يبصرون بها ولهم أذان لا يسمعون بها أولئك كالانعام بل هم اضل
“তাদের রয়েছে অন্তর,তা দিয়ে তারা বোঝেনা, তাদের রয়েছে চোখ, তা দিয়ে দেখে না, তাদের রয়েছে কান, তা দিয়ে শোনেনা। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত। বরং তার চেয়েও নিকৃষ্ট।” -আরাফ, ১৭৯
পানশালায় নির্ধারিত হতো কর্তব্য এজেন্ডা
———————————————————
কবিসম্রাট ইমরুল কায়েস ছিল পানশালায় মদমত্ত।এমন সময় তার পিতার মৃত্যু সংবাদ দেয়া হয় তাকে।কবি তখন বলেছিলেনঃ اليوم خمر وغدا امر
“এখন মাদকতায় নিমগ্ন থাকার সময়, কাজ হলো আগামী দিনের প্রসঙ্গ।”
পাথর পূজায় মগ্ন জনপদ
————————————
ভালো পাথর পেলে পূর্বেরটা ছুড়ে ফেলে দেয়া হতো।হজ্জ, কুরবানীসহ অন্যান্য এবাদাত হতো মূর্তির উদ্দেশ্যে। কাবাঘরে স্থাপিত হয়েছিল ৩৬০টি মূর্তি। মক্কা বিজয়ের দিনে নবী মোহাম্মাদ স.স্বহস্তে সব মূর্তি ভেঙে ফেলেন। তখন তার মুখে ছিল কালামে এলাহীঃ
قل جاء الحق و زهق الباطل ان الباطل كان زهوقا
“সত্য সমাগত, মিথ্যা অপসৃত। নিশ্চয়ই মিথ্যা চির পরিত্যাজ্য প্রসঙ্গ।” –বনী ইসরাইল, ৮১
কা’বার তাওয়াফ হতো উলঙ্গ হয়ে
———————————————–
এটিকে মনে করা হতো এবাদাত। এ অশ্লীল কার্যকলাপ বন্ধ করতে আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ
يا بني ادم خذوا زينتكم عند كل مسجد
“হে বনি আদম, তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় সুন্দর পোষাক পরিধান করবে।” -আ’রাফ, ৩১
কন্যা সন্তান হত্যা করা হতো অবলীলায়
——————————————————
এ সময়ের নারী হয়েছিল চুড়ান্ত অবহেলিত, ভোগ্য।নিজের পরিবারে কন্যা শিশুর আগমনকে তারা অনেক অপমানজনক মনে করতো। আপন কন্যা শিশু সন্তানকে তারা হত্যা করতো পাশবিক নির্মমতায়।
সা’সায়া ইবনু নাজিয়া ছিলেন ধনাঢ্য ব্যক্তি। তিনি বলেনঃ ৩ শত কন্যা সন্তানকে আমার নিজ অর্থের বিনিময়ে আমি বাঁচিয়ে দিয়েছি।
যুদ্ধ এবং যুদ্ধ
——————-
যুদ্ধ ছিল এ সময়ের মানুষের সহজাত এবং স্বভাবের অংশ। শত্রু থাকলে ভালো, অন্যথায় নিজের ভাইয়েরাই হয়ে যেত শত্রু। একজন আরব কবির কবিতাঃ
واحيانا على بكر أخينا ● اذا ما لم نجد إلا أخانا
“আমরা কখনো কখনো আমাদের ভাইদের সাথেই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ি, যখন আমাদের ভাইয়েরা ছাড়া অন্য কোনো শত্রু আমরা না পাই।”
W^3 (ডব্লিউ কিউব) দর্শনের পাঁকে নিমজ্জিত জনপদ
—————————————————————
War, wine, women – যুদ্ধ, মদ, নারী।
-অধ্যাপক আর এ নিকলসন
দুনিয়ার ইতিহাসে তমসার অধ্যায় ايام جاهلية
————————————————————-
এ দুঃসময়ের কালো আঁধার চিরে আগমন করলেন নিমজ্জিত মানুষের মুক্তির বারতাবাহী নবী মোহাম্মাদ স.।
💢শ্রেষ্ঠতর পবিত্র বংশধারায় আগমন হলো তার
——————————————————————-
لقد جاءكم رسول من أنفسكم
আনাস রা.থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন এ আয়াত পড়ার সময় রাসুলুল্লাহ স. انفسكم শব্দে ف বর্ণে যবর দিয়ে পড়েছেন। তখন এ আয়াতের অর্থ হয়ঃ তোমাদের কাছে রাসুল এসেছেন, যিনি এসেছেন তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সম্ভ্রান্ত, মর্যাদাশীল এবং পূত পবিত্র বংশ থেকে। -ইবনে মারদাওয়ায়হ
আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রা. এবং ইবনু শিহাব যুহুরী র. ف বর্ণে যবর পড়েছেন। -তাবারানী
হযরত আলী রা. কর্তৃক নবী করিম স. থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে জানা যায়, হযরত আদম আ. থেকে রাসুলে পাক স. এর পিতামাতা পর্যন্ত পূর্ণ বংশধারায় যতজন পুরুষ ও মহিলা রয়েছেন, তাদের প্রত্যেকেই ছিলেন পূত পবিত্র চরিত্রের অধিকারী। কারো বংশ বা জন্মের সাথে ব্যাভিচারের সামান্যতম সম্পর্কও ছিলনা।তারা সকলেই ছিলেন বৈবাহিক ধারার মাধ্যমে জন্মলাভকারী। -তাবারানী
রাসুলুল্লাহ স. এরশাদ করেনঃ জিবরিল আ. আমাকে বলেছেনঃ আমি পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেখেছি, বনু হাশিম গোত্র অপেক্ষা উন্নত কোন বংশধারা কোথাও আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি। -তাবারানী, আহমাদ
💢শ্রেষ্ঠতম সুন্দর মানুষ
———————————-
পূর্ণিমার চাঁদও হার মানে যার সৌন্দর্যের কাছে।
عن جابر بن سمرة رضي الله تعالى عنه قال رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم في ليلة اضحيان و عليه حلة حمراء فجعلت انظر اليه والى القمر فلهو عندي احسن من القمر
“জাবির ইবনু সামুরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ
আমি একবার জোসনা স্নাত রাতে রাসুলুল্লাহ স. এর প্রতি দৃষ্টিপাত করেছিলাম। তিনি তখন লালরেখা বিশিষ্ট চাদর ও লুঙ্গি পরিহিত ছিলেন। আমি (কে বেশি সুন্দর তা নির্মাণের জন্য) একবার তার দিকে তাকাই, একবার চাঁদের দিকে থাকাই। অবশেষে আমি এ সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে, নবীজি স. চাঁদের চেয়েও বেশী সুন্দর।” -শামায়েলে তিরমিজী
মুখচ্ছবিতে ছিল চাঁদের ঝলক
——————————————
يتلألأ وجهه تلألأ القمر
“তার মুখচ্ছবিতে চাঁদের ঝলকানি ঝিলিক দিত।”
-শামায়েলে তিরমিজী
কথা বলার সময় ঠোঁট বেয়ে গলে পড়তো নূর
—————————————————————
اذا تكلم روي كالنور يخرج من بين ثناياه
“যখন তিনি কথা বলতেন, তখন দেখে মনে হতো, যেন তার দন্তরাশি থেকে নূর বেরিয়ে আসছে।”
-শামায়েলে তিরমিজী
💢প্রেরিত হলেন আলোকদীপ্ত প্রদীপ হয়ে
———————————————————-
এরশাদ হচ্ছেঃ
يا أيها النبي أنا ارسلناك شاهدا ومبشرا ونذيرا و داعيا إلى الله باذنه و سراجا منيرا
“হে নবী, আমি তোমাকে প্রেরণ করেছি স্বাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা এবং সতর্ককারীরূপে। আর আল্লাহর অনুমতিক্রমে তার দিকে আহবানকারী ও আলোকদীপ্ত প্রদীপ হিসেবে।” -আহযাব, ৪৬
হযরত আয়েশা রা. রচিত কবিতা
———————————————-
আলোর প্রদীপ বিশ্ব নবী মোহাম্মাদ স. কে নিয়ে হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রা. রচিত কবিতা পংক্তিঃ
لنا شمس و للآفاق شمس
و شمسي خير من شمس السماء
فشمس الناس تطلع بعد فجر
و شمسي تطلع بعد العشاء
“আমার জন্য একটি সূর্য আছে, আর আকাশের জন্য আছে আর একটি সূর্য। আমার সূর্যটি আকাশের সূর্যের চেয়েও উত্তম।
কেননা আকাশের সূর্যের উদয়ন হয় প্রত্যেক ফজরের পরে, আর আমার সূর্যের উদয়ন হয় প্রত্যেক এশার পরে।”(একান্তই আমার হয়ে)
হাসসান ইবনু সাবিত রা. এর কবিতা
—————————————————
واجمل منك لم تر قط عينى●واحسن منك لم تلد النساء
خلقت مبرء من كل عيب ● كانك قد خلقت كما تشاء
“আপনার চেয়ে সুন্দর কাউকে আমার এ চোখ কখনো দেখেনি, আর আপনার চেয়ে উত্তম সন্তান কোন নারী জন্ম দেয়নি।
আপনাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সমস্ত ত্রুটি থেকে মুক্ত করে, যেন সৃষ্টি করা হয়েছে আপনাকে আপনার ইচ্ছা মত।”
হযরত বারা রা.
———————-
كان احسن الناس وجها واحسنهم خلقا
“তার মুখচ্ছবির সৌন্দর্য আর চরিত্র মাধুর্যে তিনি ছিলেন সমগ্র মানুষের মাঝে শ্রেষ্ঠ।”
নবী প্রেমিক আরব কবি
———————————-
اذا نحن ادلجنا وانت امامنا
كفى بالمطايا ذكراك حاديا
واذا نحن اضللنا الطريق ولم نجد
دليلا كفنا نور وجهك هاديا
“যখন আমরা রাত্রিকালীন কোন সফরে বের হই, আর আপনি হন আমাদের নেতা, তখন আমাদের বাহন উটগুলোকে দ্রুত চালিয়ে নিতে হুদি গান হিসেবে আপনার নামের উচ্চারণই যথেষ্ট হয়ে যায়।
আর আমরা যখন পথ হারিয়ে ফেলি, আর কোন রাহবার না পাই, তখন আপনার মোবারাক চেহারার আলোয় আমাদের পথ খুঁজে পেতে যথেষ্ট হয়ে যায়।”
আরও একটি কবিতা
——————————-
ان بيتا انت ساكنه
غير محتاج إلى السرج
وجهك المأمول حجتنا
يوم يأتي الناس بالحجج
“সেই গৃহ যেখানে আপনি বসবাস করেন, সেখানে কোন আলোকবর্তিকার প্রয়োজন নেই।
আর আপনার পবিত্র মুখচ্ছবি সেই দিন আমাদের মুক্তির দলিল হবে, যে দিন অন্য মানুষেরা অনেক অনেক দলিল প্রমাণ সহ হাজির হবে।”
💢তিনি ছিলেন দুনিয়াবাসির জন্য রহমত
———————————————————–
এরশাদ হয়েছেঃ وما ارسلناك إلا رحمة للعالمين
“আমি তো আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য শুধুমাত্র রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।” -আম্বিয়া, ১০৭ ।
আয়াতে عالمين শব্দটি عالم এর বহুবচন। মানব, জ্বীন, জীবজন্তু, উদ্ভিদ, জড়পদার্থ সবই এর অন্তর্ভুক্ত।আল্লাহর রুবুবিয়াতের সীমানা যতদূরে সুবিস্তৃত, ততদূর এবং সীমানা ব্যাপী তিনি রহমত।
💢তার জীবন ছিল বরকতের আকর
—————————————————-
বারাকা (بركة) শব্দটির অর্থ আসমানী মঙ্গল। ঐ কল্যাণ ও মঙ্গল যা সরাসরি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি অবতীর্ণ হয়। তাতে বাহ্যিক কোন উপকরণের বিন্দুমাত্র দখল থাকেনা। -ইমাম রাগেব ইস্পাহানি র. কৃত আলমুফরাদাত
তিনি যখন দুধমাতা হালিমা আসসাদিয়ার ঘরে
—————————————————————-
শিশু নবীজি স. কে মক্কায় গ্রহণ করার পর হালিমার বাড়িতে মাত্র একটি দিন অতিবাহিত হলো। মাত্র একটি দিনে এ শিশুর মাঝে তারা যা দেখলেন, অভিভূত হলেন।ভোর বেলায় হালিমা আসসাদিয়া রা. এর স্বামী বললেনঃ
تعلمي والله يا حليمة لقد أخذت نسمة مباركة
“হালিমা, আল্লাহর শপথ ! তুমি ভালো করে জেনে নাও, তুমি কিন্তু বড়ই বরকতপূর্ণ একটি শিশুকেই গ্রহণ করেছ।”
একদিন আগে শিশু নবীজীকে মক্কায় আসা প্রত্যেক ধাত্রীমাতার সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল, কেউ তাকে গ্রহণ করেনি। কারণ এ শিশুটি ছিল ইয়াতিম। এ শহর ছেড়ে যাওয়ার প্রাক্কালে হালিমা শূণ্য হাতে ফিরে যাওয়ার চেয়ে এই ইয়াতিম শিশুটিকেই নেওয়ার অদম্য ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন। তার স্বামীকে তিনি বলেছিলেনঃ
والله لاَذهبنَّ إلى ذالك اليتيم فلاَخذنَّه قال عليك عسى الله أن يجعل لنا فيه بركة
“আল্লাহর কসম ! আমি এই ইয়াতিম শিশুটির কাছেই যাবো এবং তাকেই গ্রহণ করবো।
স্বামী বললেনঃ ঠিক আছে। হতে পারে আল্লাহ তায়ালা এই শিশুটিকেই আমাদের জন্য বরকতের কারণ ও মাধ্যম বানিয়ে দিবেন।” -সীরাতে ইবনে হিশাম, আলখাসায়েসুল কুবরা
💢বিশ্বমানবের জন্য সৌভাগ্যের পরশমণি
———————————————————–
বিশ্বনবী স. এর হিজরতের শেষ পর্যায়ে মদিনাবাসীর অপেক্ষার প্রহর অধ্যায়। তারা প্রতিদিন সকাল বেলায় মদিনার বাইরে কংকরময় ভূমিতে গিয়ে তার জন্য অপেক্ষা করত এবং দুপুরের রোদে ঘরে ফিরত। অবশেষে একদিন মদিনার সবচেয়ে উঁচু স্থান হাররা থেকে রাসুলুল্লাহ স. এবং তার সঙ্গীদেরকে সাদা পোষাক পরিহিত অবস্থায় মরীচিকা ভেদ করে আসতে দেখে একজন ঘোষণা দিলঃ
يا معاشر العرب هذا جدكم الذى تنتظرون
“হে আরববাসী ! যে সৌভাগ্যের জন্য তোমরা প্রতীক্ষা করেছিলে, এই সেই সৌভাগ্য। -বুখারি
💢দুনিয়াবাসির সৌভাগ্যের শুভাগমনে মদিনায় গীত হলো ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ অভিষেক সঙ্গীত
————————————————————————
গীত হওয়া এ সঙ্গীতের মাঝে এই বাক্যগুলোও ছিলঃ
طلع البدر علينا من ثنية البداع
“সানিয়াতুল বিদা নামক এলাকা দিয়ে আমাদের দিকে পূর্ণিমার চাঁদের উদয়ন হলো।”
جءتَ شرفتَ المدينة مرحبا يا خير داع
“আপনি আসলেন, মদিনাও সম্মানিত হলো,
মারহাবা হে শ্রেষ্ঠ আহবায়ক।”
انت شمس انت بدر انت نور فوق نور
“আপনি সূর্য, আপনি পূর্ণিমার চাঁদ।
আপনি সকল আলোর উপরে মর্যাদাময় আলো।”
من يرى وجهك يسعد يا كريم الوالدين
“যে ব্যক্তিই আপনার বরকতপূর্ণ চেহারা দেখেছে, তার ভাগ্য হয়েছে প্রসন্ন। হে পিতামাতাকে সর্বোচ্চ সম্মানে সম্মানকারী মহামানব।”
💥
—
প্রভাষক মাওলানা রেজাউল করিম নওগাঁ
আরবি প্রভাষক,ধর্মপুর গোয়ালভিটা হোসেনিয়া আলিম মাদ্রাসা, বদলগাছী, নওগাঁ।