মো: গোলাম রব্বানী তালুকদার শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি:বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বলরামপুর গ্রামে গায়ে হলুদের রাতেই বিয়ের আনন্দ পরিণত হলো অশ্রুতে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে মৌমিতা খাতুন (২৩) নামে এক তরুণীর।শনিবার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।নিহত মৌমিতা হরিপুর চলনাকাঁথী ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার আরবি প্রভাষক গাজীউর রহমানের বড় মেয়ে।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী সোমবার (১৩ অক্টোবর) মৌমিতার বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।বিয়ের আনন্দে ভাসছিল পুরো পরিবার। সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা, সবই প্রস্তুত ছিল আসন্ন উৎসবের জন্য।কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে, সেই উৎসবের মাঝেই নেমে এলো মৃত্যুর ছায়া।শনিবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বগুড়ায় কেনাকাটার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মৌমিতা।দ্রুত তাকে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান — মৌমিতা আর নেই।খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই স্তব্ধ হয়ে যায় বলরামপুর গ্রাম।যে বাড়িতে কিছুক্ষণ আগেও হাসি-আনন্দের রোল ছিল,সেই বাড়িতে শুরু হয় আহাজারি, কান্না আর বুকফাটা বিলাপ।বিয়ের ঘর হয়ে গেল শোকের ঘর।মৌমিতার হাতে মেহেদি পড়ার কথা ছিল, কিন্তু সেই হাতে আজ ফুল দিয়ে শেষ বিদায় জানানো হচ্ছে।বিয়ের পোশাক এখন পড়ে আছে নিঃশব্দে, যেন তাকিয়েও কিছু বলতে পারছে না।
গ্রামের প্রবীণরা বলছেন—“এমন দৃশ্য যেন আর কোনো ঘরে না আসে। মেয়ের বিয়ের দিনে তার লাশ ঘরে ফেরানো — এটা কোনো পিতা-মাতার সহ্য করার নয়।”প্রিয়জন, বন্ধু, সহপাঠী — সবাই বাকরুদ্ধ।বিয়ের আনন্দ বিষাদে রূপান্তরিত হয়েছে,আর বলরামপুর গ্রাম ডুবে গেছে শোকের সাগরে।বিবাহের সাজে মৃত্যু, স্বপ্নের বিয়ে শেষ হলো চিরবিদায়ের যাত্রায়।